‘আমাকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা করা হয়েছে’, ফেসবুক লাইভে জয়নাল হাজারীর দাবি

0
31

ফেনী সদর আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী বলেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি- কালকে (বুধবার) রাত ৯টা থেকে ১০ টার মধ্যে চিঠিতে দস্তখত দিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। অব্যশই, অবশ্যই আমি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমি মিথ্যা বলি না। এটাও মিথ্যা বলছি না। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জয়নাল হাজারী। সেখানে বসেই ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা নেত্রীর (শেখ হাসিনার) এখতিয়ার। এটা তো অন্য কারও জানার কথা নয়। তাই আমি পরিষ্কার করে বলছি- আমাকের অবশ্যই আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। যে কমিটিতে আমির হোসেন আমু ভাই, তোফায়েল ভাই পর্যন্ত সদস্য। সেই ফোরামে, সেই জায়গায় স্থান দিয়ে শেখ হাসিনা আমার প্রতি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতো বিরোধীতা, এতো চক্রান্ত, মিডিয়ার এতো আক্রমণের পরেও তিনি আমার প্রতি যে আন্তরিকতা দেখালেন- তা নজিরবিহীন। পৃথিবীর কোনো নেতা-নেত্রী তাদের কোনো কর্মীর প্রতি এতোটা দরদ দেখিয়েছেন বলে আমি বিশ্বাস করি না।

সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যায় বিভ্রান্ত হবে না। ওরা কেন বিভ্রান্ত করতে চাইছে, কারণ তারা মনে করছে এটার পরপরই আমি ফেনীতে যাবো। আমি ফেনীতে গেলেই তাদের অস্তিত্ব বিলীন হবে। কিন্তু এই ধারণা তাদের কতটা সত্য আমি জানি না। আমি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হলেও নেত্রী বলা ছাড়া ফেনীতে যাবো না। যদি নেত্রী বলেন যেতে, তার কোনো প্রয়োজন যদি থাকে, তাহলে তো যাবোই। সেটা আমি মরে গেলেও কোনো অবস্থাতে কেউ রুখতে পারবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জয়নাল হাজারীকে উপদেষ্টা করার কোনো নির্দেশনা আমার জানা নেই’।
ফেসবুক লাইভে এ প্রসঙ্গে জয়নাল হাজারী বলেন, আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি একারণে যে রাজনীতি করতে গেলে কিছু মিথ্যা কথা বলতে হয় কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো মিথ্যা কথা বলেন নাই। তিনি বলেছেন, ‘আমি কিছু জানি না’। তিনি বলেছেন ‘আমার সঙ্গে আলোচনা হয় নাই’। একশ পার্সেন্ট সত্য- এটা নেত্রী কারো সঙ্গে আলোচনা করেন নাই। কারণ কাউকে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা অথবা উপদেষ্টা করা এটা নেত্রীর একান্তভাবে নিজস্ব এখতিয়ার। দলের বিগত জাতীয় সম্মেলনে তাকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটা অনেকটা নিয়োগ। এটা কাউন্সিলে মাধ্যমে হওয়ার বিষয় নয়। আমার আগেও যাদেরকে উপদেষ্টা করা হয়েছে, তখনও কারো সঙ্গে আলোচনা করে আনেন নাই। শুধু একটা চিঠি আওয়ামী লীগ অফিসে পাঠিয়ে দেন। এবং সেখান থেকেই এটা চলে যায় মিডিয়াতে। এটা ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলাপ করে করার কোনো দরকার নাই। ওনার জানারও কোনো দরকার নাই। আমাকে যে নেত্রী ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন সেটাও তো তিনি জানতেন না। আমি নিজে ওনার বাসায় গিয়ে ওখানে জানিয়ে এসেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here