Dhaka ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’-র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’

Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২ Time View


আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের শুরুর আগেই সরকারি বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ পড়তে পারবে। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়েবসাইটে এসব নতুন পাঠ্যবই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি। অন্যদিকে, নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বইয়ের ছাপা কপি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম এবং তার পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’। এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সব পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের সব পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’-র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ নাম যুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবইয়ে একাধিক সংশোধন আনা হয়। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ ব্যবহারের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনা পায় এনসিটিবি। পরে সেই অনুযায়ী সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক তৃতীয় অধ্যায়ের ‘পাঠ–২: ৭ই মার্চের ভাষণ’-এ দেখা গেছে, সাতটি স্থানের মধ্যে ছয়টিতে ‘বঙ্গবন্ধু’-র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে। তবে একটি স্থানে এখনো ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রয়ে গেছে।


বঙ্গবন্ধু রয়ে গেছে এক জায়গায়

এনসিটিবি সূত্র আরও জানিয়েছে, পাঠ্যবইয়ের শিরোনাম বা ঐতিহাসিক উপাধি হিসেবে যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে তা সংশোধন করা হয়নি। তবে ব্যক্তিনামের ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’ বাদ দিয়ে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অভিযুক্ত অন্যান্যদের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পান। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আয়োজিত জনসভায় তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সে সময় এই উপাধি ঘোষণার ঘোষণা দেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও বর্তমানে অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ।

জানা গেছে, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে সেই ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

নতুন পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’-র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’

Update Time : ১০:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫


আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের শুরুর আগেই সরকারি বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ পড়তে পারবে। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়েবসাইটে এসব নতুন পাঠ্যবই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি। অন্যদিকে, নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বইয়ের ছাপা কপি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম এবং তার পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’। এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সব পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের সব পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’-র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ নাম যুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবইয়ে একাধিক সংশোধন আনা হয়। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ ব্যবহারের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনা পায় এনসিটিবি। পরে সেই অনুযায়ী সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক তৃতীয় অধ্যায়ের ‘পাঠ–২: ৭ই মার্চের ভাষণ’-এ দেখা গেছে, সাতটি স্থানের মধ্যে ছয়টিতে ‘বঙ্গবন্ধু’-র পরিবর্তে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে। তবে একটি স্থানে এখনো ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রয়ে গেছে।


বঙ্গবন্ধু রয়ে গেছে এক জায়গায়

এনসিটিবি সূত্র আরও জানিয়েছে, পাঠ্যবইয়ের শিরোনাম বা ঐতিহাসিক উপাধি হিসেবে যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে তা সংশোধন করা হয়নি। তবে ব্যক্তিনামের ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’ বাদ দিয়ে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অভিযুক্ত অন্যান্যদের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পান। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আয়োজিত জনসভায় তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সে সময় এই উপাধি ঘোষণার ঘোষণা দেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও বর্তমানে অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ।

জানা গেছে, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে সেই ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।