Dhaka ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন সঞ্জয় ও ফয়সাল

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১১ Time View


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তারা জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তারা এই জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১৫ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট সীমান্তে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে আটকের কথা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তিন দিন এবং ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুই দফা রিমান্ড শেষে ২৬ ডিসেম্বর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁদের তিন দিন করে তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

অন্যদিকে ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১-এর একটি দল নরসিংদী থেকে ফয়সালকে আটক করে। পরে তাকে নরসিংদীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

আজ রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে আনা হলে সঞ্জয় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। আর সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১–এর একটি দল তাকে নরসিংদী সদর থেকে আটক করে। পরে নরসিংদীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আজ তিনজনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে আনা হলে সঞ্জয় ও ফয়সাল দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। আর সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার, তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির ও আমিনুল। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক ও আমিনুল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুতে মামলায় ৩০২ (হত্যা) ধারা যুক্ত করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী ও সহযোগীরাও রয়েছেন। 

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর জখম হন।

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। 





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন সঞ্জয় ও ফয়সাল

Update Time : ০২:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তারা জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তারা এই জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১৫ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট সীমান্তে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে আটকের কথা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তিন দিন এবং ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুই দফা রিমান্ড শেষে ২৬ ডিসেম্বর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁদের তিন দিন করে তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

অন্যদিকে ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১-এর একটি দল নরসিংদী থেকে ফয়সালকে আটক করে। পরে তাকে নরসিংদীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

আজ রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে আনা হলে সঞ্জয় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। আর সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৬ ডিসেম্বর র‍্যাব-১১–এর একটি দল তাকে নরসিংদী সদর থেকে আটক করে। পরে নরসিংদীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আজ তিনজনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে আনা হলে সঞ্জয় ও ফয়সাল দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। আর সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার, তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির ও আমিনুল। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক ও আমিনুল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুতে মামলায় ৩০২ (হত্যা) ধারা যুক্ত করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী ও সহযোগীরাও রয়েছেন। 

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর জখম হন।

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। 





Source link