Dhaka ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ Time View


বিশ্ববাজারে প্রায় এক সপ্তাহ দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক লেনদেনে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪৯৮২ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই দরবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু তাৎক্ষণিক লেনদেনেই নয়, ভবিষ্যতের চুক্তিতেও স্বর্ণের দাম চড়া রয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে সরবরাহ করা হবে এমন স্বর্ণের ফিউচার্স ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫০০১ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী চাকরির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার না কমলে মুদ্রার চেয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ করাকে লাভজনক মনে করছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন আসন্ন মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) তথ্যের দিকে, যা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, যদি মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি থাকে, তবে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই আকস্মিক উত্থানের ফলে স্থানীয় বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা গয়না ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সার্বিকভাবে বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় বিধায় দেশের বাজারেও শীঘ্রই নতুন মূল্যতালিকা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধিকে ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য মুদ্রানীতির প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবে দেখছে।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

Update Time : ১০:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বিশ্ববাজারে প্রায় এক সপ্তাহ দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক লেনদেনে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪৯৮২ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই দরবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু তাৎক্ষণিক লেনদেনেই নয়, ভবিষ্যতের চুক্তিতেও স্বর্ণের দাম চড়া রয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে সরবরাহ করা হবে এমন স্বর্ণের ফিউচার্স ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫০০১ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী চাকরির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার না কমলে মুদ্রার চেয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ করাকে লাভজনক মনে করছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন আসন্ন মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) তথ্যের দিকে, যা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, যদি মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি থাকে, তবে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই আকস্মিক উত্থানের ফলে স্থানীয় বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা গয়না ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সার্বিকভাবে বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় বিধায় দেশের বাজারেও শীঘ্রই নতুন মূল্যতালিকা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধিকে ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য মুদ্রানীতির প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবে দেখছে।