Dhaka ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আমি আবার মরলাম কবে’, প্রশ্ন ‘মৃত’ মালেকা বেগমের

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫ Time View


সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিধবা ভাতাভোগী মোছা. মালেকা বেগম (৭০) হঠাৎ করেই জানতে পারলেন সরকারি নথিতে তিনি আর জীবিত নেই- তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় হতবাক ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওই বৃদ্ধা।

মালেকা বেগম নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই কিস্তি, অর্থাৎ ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে গত মঙ্গলবার তিনি উপজেলা সদরে সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কথা শুনে হতবাক হয়ে যান মালেকা বেগম। অফিসের লোকজনকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমি আবার মরলাম কবে?’

মালেকা বেগম বলেন, ‘তিন মাস পরপর মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা পেতেন। স্থানীয় দোকান থেকে টাকা তুলে কোনো রকমে জীবনযাপন করতেন। বর্তমানে ভাতা বন্ধ থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তার প্রশ্ন, জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা তাকে মৃত দেখিয়ে এমন ক্ষতি করল?’

সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ভাতাভোগীদের কেউ মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমান তালিকা থেকে অন্যের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তার প্রস্তাবে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামে একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রুহুল আমীন বলেন, ‘ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘মালেকা বেগম যাতে দ্রুত পুনরায় ভাতার অর্থ পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

‘আমি আবার মরলাম কবে’, প্রশ্ন ‘মৃত’ মালেকা বেগমের

Update Time : ০৭:১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিধবা ভাতাভোগী মোছা. মালেকা বেগম (৭০) হঠাৎ করেই জানতে পারলেন সরকারি নথিতে তিনি আর জীবিত নেই- তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় হতবাক ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওই বৃদ্ধা।

মালেকা বেগম নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই কিস্তি, অর্থাৎ ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে গত মঙ্গলবার তিনি উপজেলা সদরে সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কথা শুনে হতবাক হয়ে যান মালেকা বেগম। অফিসের লোকজনকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমি আবার মরলাম কবে?’

মালেকা বেগম বলেন, ‘তিন মাস পরপর মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা পেতেন। স্থানীয় দোকান থেকে টাকা তুলে কোনো রকমে জীবনযাপন করতেন। বর্তমানে ভাতা বন্ধ থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তার প্রশ্ন, জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা তাকে মৃত দেখিয়ে এমন ক্ষতি করল?’

সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ভাতাভোগীদের কেউ মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমান তালিকা থেকে অন্যের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তার প্রস্তাবে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামে একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রুহুল আমীন বলেন, ‘ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘মালেকা বেগম যাতে দ্রুত পুনরায় ভাতার অর্থ পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’