Dhaka ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করছে ব্রিটেন-ফ্রান্স, অভিযোগ রাশিয়ার

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২ Time View


ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর) এই দাবি করার পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যার ফলাফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করছে ইউরোপের এই দুই দেশ। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেনি এসভিআর। মস্কোয় নিযুক্ত ফ্রান্সের দূতাবাস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

অন্যদিকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিণাম পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করায় ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভকে পরিত্যাগ না করার অঙ্গীকার করেছেন। যদিও কিয়েভের মিত্রদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

হাঙ্গেরি সম্প্রতি ইউক্রেনের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন ইইউ নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন কিয়েভ সফরে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইইউ যেকোনো উপায়ে এই ঋণ সহায়তা পৌঁছে দেবে।

ইউক্রেন আক্রমণের চতুর্থ বার্ষিকীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই জি-৭ নেতাদের প্রথম যৌথ ঘোষণা। 

নেতারা ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার এবং দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসানোর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তারা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়া সদুদ্দেশ্যে আলোচনার মাধ্যমেই একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে এবং রণক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি অর্জন করছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চলের শেষ ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক আবেগঘন ভাষণে বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া মাতৃভূমি তারা কখনোই শত্রুর হাতে তুলে দেবেন না। বর্তমানে কিয়েভের রাস্তায় যুদ্ধক্লান্ত মানুষের মধ্যে এক বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে নীরবতার মধ্য দিয়ে তারা নিহত সৈনিকদের স্মরণ করছেন।

সূত্র: ডন



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করছে ব্রিটেন-ফ্রান্স, অভিযোগ রাশিয়ার

Update Time : ০৯:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর) এই দাবি করার পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যার ফলাফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করছে ইউরোপের এই দুই দেশ। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেনি এসভিআর। মস্কোয় নিযুক্ত ফ্রান্সের দূতাবাস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

অন্যদিকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিণাম পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করায় ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভকে পরিত্যাগ না করার অঙ্গীকার করেছেন। যদিও কিয়েভের মিত্রদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

হাঙ্গেরি সম্প্রতি ইউক্রেনের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন ইইউ নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন কিয়েভ সফরে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইইউ যেকোনো উপায়ে এই ঋণ সহায়তা পৌঁছে দেবে।

ইউক্রেন আক্রমণের চতুর্থ বার্ষিকীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই জি-৭ নেতাদের প্রথম যৌথ ঘোষণা। 

নেতারা ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার এবং দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসানোর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তারা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়া সদুদ্দেশ্যে আলোচনার মাধ্যমেই একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে এবং রণক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি অর্জন করছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চলের শেষ ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক আবেগঘন ভাষণে বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া মাতৃভূমি তারা কখনোই শত্রুর হাতে তুলে দেবেন না। বর্তমানে কিয়েভের রাস্তায় যুদ্ধক্লান্ত মানুষের মধ্যে এক বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে নীরবতার মধ্য দিয়ে তারা নিহত সৈনিকদের স্মরণ করছেন।

সূত্র: ডন