ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে শেরাটনের মোড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখের সড়কটি ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ সদস্যরা বন্ধ রেখেছেন। অপরদিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তাদের। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন।
সরেজমিন দেখা যায়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের মোড় জলকামানের পানিতে ভিজে আছে কার্পেট, কম্বল, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জুতা। কয়েকশ পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। শেরাটন মোড় থেকে যমুনার দিকে যাওয়া সড়কে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পথচারীদেরও করা হচ্ছে তল্লাশি। অপরদিকে কাকরাইল ও মিন্টু রোডসহ পুরো যমুনা এলাকায় কড়াকড়িভাবে টহল দিচ্ছে পুলিশ।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন।
এর আগে, পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ভন্ডুল করে দেয়। এরপর পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য, পুলিশ এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও আহত হন।
সংঘর্ষের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস) হাসান মো. শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো রকম উসকানি ছাড়াই আজকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ কেবল সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে।’
এদিকে কারওয়ান বাজার বা যমুনার আশপাশে আর কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা আচরণ যমুনা এবং এর আশপাশে করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ব্যারিকেড দিয়ে ব্যারিকেডের ভেতরে ছিল। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

























