Dhaka ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামি শরিয়তে বিয়ে করা সুন্নত নাকি ফরজ

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭ Time View


ইসলামি শরিয়তে বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন এবং এটি মানবজাতির বংশবিস্তার ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। সাধারণভাবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিয়েকে নিজের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

সুনানে ইবনে মাজার এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বিয়ে করা আমার সুন্নত; যে ব্যক্তি আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। অতএব তোমরা বিয়ে করো, কেননা আমি কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের সামনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব।’ তিনি আরও বলেন, যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে, আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জৈবিক উত্তেজনা প্রশমিত করে।

বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলেও ব্যক্তির অবস্থাভেদে এই বিধান পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হন এবং বিয়ে না করলে পাপে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তবে তার ওপর বিয়ে করা ফরজ হয়ে যায়।
ছবি: ইত্তেফাক

ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর মতে, যে ব্যক্তি অবিবাহিত থাকলে গুনাহে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় করেন এবং সেই আশঙ্কা দূর করার অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ; এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। বিশেষ করে হারামে লিপ্ত হওয়া, কুদৃষ্টি দেওয়া বা ব্যভিচারের মতো জঘন্য পাপে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নিজেকে পবিত্র রাখতে বিয়ে করাই একমাত্র সমাধান।

তবে ইসলাম কেবল বিয়ের আদেশই দেয়নি, বরং সামর্থ্য না থাকা পর্যন্ত ধৈর্যের পরামর্শও দিয়েছে। পবিত্র কুরআনের সুরা নুরে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাঁদের নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।’ অর্থাৎ আর্থিক অনটনের কারণে কেউ বিয়ে করতে না পারলে তাকে রোজা রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে পবিত্র জীবন যাপনের চেষ্টা করতে হবে। সামর্থ্য অর্জনের পর বিলম্ব না করে বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়া ইসলামের শিক্ষা।
ছবি: এবিসি নিউজ

অন্যদিকে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে বিয়ে করা মাকরুহ বা হারামও হতে পারে। যদি কেউ নিশ্চিত হন যে বিয়ের পর তিনি স্ত্রীর প্রাপ্য হক আদায় করতে পারবেন না কিংবা স্ত্রীর ওপর জুলুম করার সম্ভাবনা থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা মাকরুহ। আবার কেউ যদি গুরুতর যৌন অক্ষমতা বা এমন কোনো সমস্যায় ভোগেন যা বিয়ের মৌলিক উদ্দেশ্য ও দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং বিয়ে করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, তবে তেমন ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ বা হারাম। 

সুতরাং বিয়ে করার ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা এবং শরিয়তের মানদণ্ড মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

ইসলামি শরিয়তে বিয়ে করা সুন্নত নাকি ফরজ

Update Time : ০২:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫


ইসলামি শরিয়তে বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন এবং এটি মানবজাতির বংশবিস্তার ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। সাধারণভাবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিয়েকে নিজের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

সুনানে ইবনে মাজার এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বিয়ে করা আমার সুন্নত; যে ব্যক্তি আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। অতএব তোমরা বিয়ে করো, কেননা আমি কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের সামনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব।’ তিনি আরও বলেন, যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে, আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জৈবিক উত্তেজনা প্রশমিত করে।

বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলেও ব্যক্তির অবস্থাভেদে এই বিধান পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হন এবং বিয়ে না করলে পাপে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তবে তার ওপর বিয়ে করা ফরজ হয়ে যায়।
ছবি: ইত্তেফাক

ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর মতে, যে ব্যক্তি অবিবাহিত থাকলে গুনাহে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় করেন এবং সেই আশঙ্কা দূর করার অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ; এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। বিশেষ করে হারামে লিপ্ত হওয়া, কুদৃষ্টি দেওয়া বা ব্যভিচারের মতো জঘন্য পাপে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নিজেকে পবিত্র রাখতে বিয়ে করাই একমাত্র সমাধান।

তবে ইসলাম কেবল বিয়ের আদেশই দেয়নি, বরং সামর্থ্য না থাকা পর্যন্ত ধৈর্যের পরামর্শও দিয়েছে। পবিত্র কুরআনের সুরা নুরে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাঁদের নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।’ অর্থাৎ আর্থিক অনটনের কারণে কেউ বিয়ে করতে না পারলে তাকে রোজা রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে পবিত্র জীবন যাপনের চেষ্টা করতে হবে। সামর্থ্য অর্জনের পর বিলম্ব না করে বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়া ইসলামের শিক্ষা।
ছবি: এবিসি নিউজ

অন্যদিকে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে বিয়ে করা মাকরুহ বা হারামও হতে পারে। যদি কেউ নিশ্চিত হন যে বিয়ের পর তিনি স্ত্রীর প্রাপ্য হক আদায় করতে পারবেন না কিংবা স্ত্রীর ওপর জুলুম করার সম্ভাবনা থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা মাকরুহ। আবার কেউ যদি গুরুতর যৌন অক্ষমতা বা এমন কোনো সমস্যায় ভোগেন যা বিয়ের মৌলিক উদ্দেশ্য ও দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং বিয়ে করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, তবে তেমন ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ বা হারাম। 

সুতরাং বিয়ে করার ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা এবং শরিয়তের মানদণ্ড মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।