Dhaka ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগ অংশই ইরানের কাছে রয়ে গেছে: আইএইএ প্রধান

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬ Time View


গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বেশিরভাগ অংশই রয়ে গেছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই দাবি করেছেন।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তাদের কাছে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগই দেশেই রয়ে গেছে- এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এর আগে শনিবারও গ্রোসি আলাদাভাবে আরআইএ নভোস্তিকে বলেছিলেন, কিছু স্থান অনিরাপদ কিনা তা যাচাই করার জন্য আইএইএ প্রতিনিধিদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি প্রয়োজন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা তিনটি স্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- যেগুলো পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, রূপান্তর এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের অত্যন্ত উন্নত পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে। তাদের শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন উপাদান রয়েছে এবং দেশজুড়ে অসংখ্য অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।

গ্রোসি বলেন, দেশটি একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও পরিচালনা করে এবং রাশিয়ার সহায়তায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সকল ক্ষেত্রেই পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং ব্যাপক সুরক্ষা চুক্তির অধীনে, ইরান এই স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার প্রদান করতে বাধ্য। তেহরানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরান যুক্তি দেয়, কিছু স্থাপনা অনিরাপদ এবং দুর্গম। তিনি বলেন, এই ধরনের ক্ষেত্রে, পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সত্যিই অসম্ভব কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য অনুমতি দিতে হবে।

গ্রোসির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো- যখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তাদের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে।

গত ১৩ জুন ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালীন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন শুরু করে। ইসরায়েলি আক্রমণের ফলে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে দেশটিতে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৪ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে প্রবেশ করে।

জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চলজুড়ে (ইসরায়েল) কৌশলগত স্থানগুলোর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করলেও তেহরান বলে আসছে, ইরান দখলদার সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চলিয়ে আগ্রাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয়।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগ অংশই ইরানের কাছে রয়ে গেছে: আইএইএ প্রধান

Update Time : ০৮:১৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫


গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বেশিরভাগ অংশই রয়ে গেছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই দাবি করেছেন।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তাদের কাছে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগই দেশেই রয়ে গেছে- এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এর আগে শনিবারও গ্রোসি আলাদাভাবে আরআইএ নভোস্তিকে বলেছিলেন, কিছু স্থান অনিরাপদ কিনা তা যাচাই করার জন্য আইএইএ প্রতিনিধিদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি প্রয়োজন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা তিনটি স্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- যেগুলো পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, রূপান্তর এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের অত্যন্ত উন্নত পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে। তাদের শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন উপাদান রয়েছে এবং দেশজুড়ে অসংখ্য অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।

গ্রোসি বলেন, দেশটি একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও পরিচালনা করে এবং রাশিয়ার সহায়তায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সকল ক্ষেত্রেই পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং ব্যাপক সুরক্ষা চুক্তির অধীনে, ইরান এই স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার প্রদান করতে বাধ্য। তেহরানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরান যুক্তি দেয়, কিছু স্থাপনা অনিরাপদ এবং দুর্গম। তিনি বলেন, এই ধরনের ক্ষেত্রে, পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সত্যিই অসম্ভব কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য অনুমতি দিতে হবে।

গ্রোসির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো- যখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তাদের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে।

গত ১৩ জুন ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালীন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন শুরু করে। ইসরায়েলি আক্রমণের ফলে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে দেশটিতে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৪ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে প্রবেশ করে।

জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চলজুড়ে (ইসরায়েল) কৌশলগত স্থানগুলোর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করলেও তেহরান বলে আসছে, ইরান দখলদার সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চলিয়ে আগ্রাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয়।