Dhaka ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এআই যা বলে, অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না: গুগল সিইও

Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ Time View


গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী (সিইও) সুন্দর পিচাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দেওয়া সব তথ্যকে ‘অন্ধভাবে বিশ্বাস’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই মডেলগুলোতে ভুল করার প্রবণতা থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য উপায়েও তথ্য যাচাই করা উচিত। পিচাই বলেন, ‘এ কারণেই মানুষ গুগল সার্চ ব্যবহার করে, আর আমাদের আরও কিছু পণ্য আছে যেগুলো সঠিক তথ্য সরবরাহে বেশি নির্ভরযোগ্য।’ 

যদিও এআই টুলস সৃজনশীলভাবে কিছু লিখতে চাইলে সহায়ক, তবু তিনি বলেন, এই টুলগুলো যেসব কাজে ভালো, সেভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এদের বলা সবকিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ পরিশ্রম করি। তবে বর্তমান আধুনিক এআই প্রযুক্তিতেও কিছু ভুল হওয়ার প্রবণতা আছে।’

প্রযুক্তি দুনিয়া গুগলের নতুন ভোক্তাবিষয়ক এআই মডেল জেমিনি ৩.০-এর সর্বশেষ উন্মোচনের অপেক্ষায় ছিল, যা ইতোমধ্যেই চ্যাটজিপিটি থেকে হারানো বাজারের অংশ ফিরে পেতে শুরু করেছে। এ বছরের মে মাস থেকে গুগল সার্চে নতুন একটি এআই মোড যুক্ত করা শুরু করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা যেন কোনো বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলছেন এমন অভিজ্ঞতা দিতে জেমিনি চ্যাটবটকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। ছবি: রয়টার্স

সে সময় পিচাই জানান, সার্চে জেমিনির সংযুক্তি এআই প্ল্যাটফর্ম রূপান্তরের এক নতুন ধাপ নির্দেশ করে। এই উদ্যোগ মূলত চ্যাটজিপিটির মতো এআই সেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গুগলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। 

এ বছরের শুরুর দিকে বিবিসির এক গবেষণায় দেখা যায়, ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফটের কোপাইলট, গুগলের জেমিনি এবং পারপ্লেক্সিটি এআই—সবগুলোই সংবাদ প্রতিবেদন ভুলভাবে সংক্ষেপ করেছে বা প্রশ্নের উত্তরে ‘উল্লেখযোগ্য ভুলত্রুটি’ দিয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুন্দর পিচাই বলেন, প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, অ্যালফাবেটের ক্ষেত্রে এই টানাপোড়েন সামলানোর অর্থ হলো ‘একই সঙ্গে সাহসী এবং দায়িত্বশীল থাকা।’ 

তিনি জানান, এআই–এ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গুগল এআই নিরাপত্তায়ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন প্রযুক্তি ওপেন সোর্স করছি, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো ছবি এআই–এর তৈরি কি না।’ 

প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্ক ওপেনএআই–এর প্রতিষ্ঠাতাদের বলেছিলেন, গুগলের মালিকানাধীন ডিপমাইন্ড এআই–নির্ভর এক ধরনের ‘স্বৈরতন্ত্র’ তৈরি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিচাই বলেন, ‘এত শক্তিশালী প্রযুক্তির মালিকানা কোনো একক কোম্পানির হাতে থাকা উচিত নয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যদি একটিমাত্র কোম্পানি এআই প্রযুক্তি তৈরি করত এবং সবাইকে সেটাই ব্যবহার করতে হতো, তাহলে আমিও উদ্বিগ্ন হতাম। কিন্তু আমরা এখনো সেই পরিস্থিতি থেকে অনেক দূরে।’

সূত্র: বিবিসি



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

এআই যা বলে, অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না: গুগল সিইও

Update Time : ০২:২৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী (সিইও) সুন্দর পিচাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দেওয়া সব তথ্যকে ‘অন্ধভাবে বিশ্বাস’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই মডেলগুলোতে ভুল করার প্রবণতা থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য উপায়েও তথ্য যাচাই করা উচিত। পিচাই বলেন, ‘এ কারণেই মানুষ গুগল সার্চ ব্যবহার করে, আর আমাদের আরও কিছু পণ্য আছে যেগুলো সঠিক তথ্য সরবরাহে বেশি নির্ভরযোগ্য।’ 

যদিও এআই টুলস সৃজনশীলভাবে কিছু লিখতে চাইলে সহায়ক, তবু তিনি বলেন, এই টুলগুলো যেসব কাজে ভালো, সেভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এদের বলা সবকিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ পরিশ্রম করি। তবে বর্তমান আধুনিক এআই প্রযুক্তিতেও কিছু ভুল হওয়ার প্রবণতা আছে।’

প্রযুক্তি দুনিয়া গুগলের নতুন ভোক্তাবিষয়ক এআই মডেল জেমিনি ৩.০-এর সর্বশেষ উন্মোচনের অপেক্ষায় ছিল, যা ইতোমধ্যেই চ্যাটজিপিটি থেকে হারানো বাজারের অংশ ফিরে পেতে শুরু করেছে। এ বছরের মে মাস থেকে গুগল সার্চে নতুন একটি এআই মোড যুক্ত করা শুরু করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা যেন কোনো বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলছেন এমন অভিজ্ঞতা দিতে জেমিনি চ্যাটবটকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। ছবি: রয়টার্স

সে সময় পিচাই জানান, সার্চে জেমিনির সংযুক্তি এআই প্ল্যাটফর্ম রূপান্তরের এক নতুন ধাপ নির্দেশ করে। এই উদ্যোগ মূলত চ্যাটজিপিটির মতো এআই সেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গুগলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। 

এ বছরের শুরুর দিকে বিবিসির এক গবেষণায় দেখা যায়, ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফটের কোপাইলট, গুগলের জেমিনি এবং পারপ্লেক্সিটি এআই—সবগুলোই সংবাদ প্রতিবেদন ভুলভাবে সংক্ষেপ করেছে বা প্রশ্নের উত্তরে ‘উল্লেখযোগ্য ভুলত্রুটি’ দিয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুন্দর পিচাই বলেন, প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, অ্যালফাবেটের ক্ষেত্রে এই টানাপোড়েন সামলানোর অর্থ হলো ‘একই সঙ্গে সাহসী এবং দায়িত্বশীল থাকা।’ 

তিনি জানান, এআই–এ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গুগল এআই নিরাপত্তায়ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন প্রযুক্তি ওপেন সোর্স করছি, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো ছবি এআই–এর তৈরি কি না।’ 

প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্ক ওপেনএআই–এর প্রতিষ্ঠাতাদের বলেছিলেন, গুগলের মালিকানাধীন ডিপমাইন্ড এআই–নির্ভর এক ধরনের ‘স্বৈরতন্ত্র’ তৈরি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিচাই বলেন, ‘এত শক্তিশালী প্রযুক্তির মালিকানা কোনো একক কোম্পানির হাতে থাকা উচিত নয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যদি একটিমাত্র কোম্পানি এআই প্রযুক্তি তৈরি করত এবং সবাইকে সেটাই ব্যবহার করতে হতো, তাহলে আমিও উদ্বিগ্ন হতাম। কিন্তু আমরা এখনো সেই পরিস্থিতি থেকে অনেক দূরে।’

সূত্র: বিবিসি