বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, আর একটিতে অংশ নিলেও ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমরা সবাই কারাগারে ছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, সুযোগ এসেছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। তাই এবারের ভোটে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি এলাকা আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে রয়েছে তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার। তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে আগ্রহী। এবারের নির্বাচনে জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সেচ ও সার ক্রয় করা যাবে এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি মা-বোনদের জন্য এনজিওর সব কিস্তি এক বছরের জন্য মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট পাকাকরণ করা হবে, এখানে এলএসডি গোডাউন নির্মাণ করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে। আয় বাড়লে বিমানবন্দর চালু করা কঠিন হবে না। তবে সবার আগে তিনি উন্নতমানের একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে চান, যাতে এলাকার মানুষ এখানেই উন্নত চিকিত্সাসেবা পায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না।’


























