Dhaka ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যাম্প থেকে বের হতে পারবেন না রোহিঙ্গারা

Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩ Time View


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বার্থান্বেষী মহল রোহিঙ্গাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কার্যত লকডাউন বা সিলগালা রাখা হবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ইসির পর্যবেক্ষণ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) এবং আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে; পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতিরও তথ্য মিলেছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সময় কোনো মহল যাতে রোহিঙ্গাদের ভোটকেন্দ্রে জনবল হিসেবে ব্যবহার, জাল ভোট প্রদান কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে না পারে, সে লক্ষ্যে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইসির চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এমপি প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার। টাকার বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান ও ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলোর  (RCPR, Ro-FDMN RC) মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা প্রচার। আরসা  (ARSA), আরএসও  (RSO) বা আরাকান আর্মির মতো গ্রুপগুলোর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি।

ক্যাম্পের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে ইসি—

চলাচলে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা: নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বহির্গমন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে।

বাজার ও এনজিও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ: জনসমাগম এড়াতে ক্যাম্প-সংলগ্ন বড় বাজারগুলো (বালুখালী, লেদা, নয়াপাড়া) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত করা হবে।

কঠোর নজরদারি: প্রতিটি চেকপোস্টে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করা হবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের ওপর কড়া নজরদারি থাকবে।

যৌথ অভিযান ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ চিরুনি অভিযান চলবে। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্ট নিয়োজিত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট নয় লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার রয়েছেন চার লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

ক্যাম্প থেকে বের হতে পারবেন না রোহিঙ্গারা

Update Time : ১০:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বার্থান্বেষী মহল রোহিঙ্গাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কার্যত লকডাউন বা সিলগালা রাখা হবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ইসির পর্যবেক্ষণ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) এবং আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে; পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতিরও তথ্য মিলেছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সময় কোনো মহল যাতে রোহিঙ্গাদের ভোটকেন্দ্রে জনবল হিসেবে ব্যবহার, জাল ভোট প্রদান কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে না পারে, সে লক্ষ্যে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইসির চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এমপি প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার। টাকার বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান ও ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলোর  (RCPR, Ro-FDMN RC) মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা প্রচার। আরসা  (ARSA), আরএসও  (RSO) বা আরাকান আর্মির মতো গ্রুপগুলোর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি।

ক্যাম্পের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে ইসি—

চলাচলে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা: নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বহির্গমন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে।

বাজার ও এনজিও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ: জনসমাগম এড়াতে ক্যাম্প-সংলগ্ন বড় বাজারগুলো (বালুখালী, লেদা, নয়াপাড়া) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত করা হবে।

কঠোর নজরদারি: প্রতিটি চেকপোস্টে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করা হবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের ওপর কড়া নজরদারি থাকবে।

যৌথ অভিযান ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ চিরুনি অভিযান চলবে। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্ট নিয়োজিত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট নয় লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার রয়েছেন চার লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।





Source link