সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিভিন্ন বিদেশি মিশন তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে শোকবার্তা প্রকাশ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে সমবেদনা জানায়।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের দপ্তর এক বার্তায় জানায়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীর শোকাহত। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার এবং তার প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এ সময়ে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।’
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসও ফেসবুক পোস্টে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেছে, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
চীনের দূতাবাস জানায়, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার দৃঢ়তা ও নিষ্ঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ফ্রান্সের দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই শোকের সময়ে ফ্রান্স তার পরিবার, তার দল এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
গভীর শোক প্রকাশ করে জার্মানি দূতাবাস জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গত কয়েক দশকে তার সঙ্গে জার্মানির সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে জার্মানি। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশকা ফিশারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের সঙ্গে তার বৈঠক। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জার্মানির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
ফেসবুক পেজে আরও লেখা হয়েছে, ‘এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তার (খালেদা জিয়া) অবদানকে সম্মান জানাচ্ছে এবং তার পরিবার, তার দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শান্তিতে বিশ্রাম নিক।’
কানাডা হাইকমিশন এক বার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়।
যুক্তরাজ্য জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ইন্তেকালে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই দুঃসময়ে তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে।
জাপান দূতাবাস তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার, বিএনপির সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
এতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া দুইবার জাপান সফর করেন এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে মূল্যবান অবদান রাখেন। তার নিষ্ঠা ও উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার আত্মা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিক।’
অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন তাদের ফেসবুক পেজে লিখেছে, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’
ইরান দূতাবাস এক বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সব নেতা–কর্মীর প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছে। এতে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন বিশিষ্ট জাতীয় নেতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় ছিল।




















