জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত নিয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন—জুলাইয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি এ বিষয়ে কিছু বলেছে? মহাসচিব কেন এ ব্যাখ্যা দিলেন, আমি জানি না। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি।”
মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে একটি সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। এর ভিত্তি ছিল জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামা। সেখানে বলা হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ও অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে।
তিনি জানান, এই অঙ্গীকারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল।
চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় সরকার চাঁদাবাজ চক্র ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। বড় ঘটনায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগের সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠার ফলে জনগণের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হয়েছে। তবে গুরুতর অপরাধ এখনো ঘটছে।
সশস্ত্র বাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীও অনির্দিষ্টকাল মাঠে থাকতে চায় না, কারণ এতে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ সদস্যরা সেগুলো গ্রহণ, সংশোধন বা বাতিল করবেন।
র্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, র্যাব বিলুপ্ত বা পুনর্গঠন করা হবে কি না—সে বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্সের তালিকা প্রস্তুত ও অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, গোয়েন্দা ও আইন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেবে।

























