Dhaka ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে অপশাসন আর ফিরে আসবে না: প্রধান উপদেষ্টা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০ Time View


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না এবং দেশ এক নতুন পথে এগোবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সামনে যে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

সোমবার সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য দেন এবং পরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; সেগুলো ছিল ভুয়া নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনবে। তার মতে, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। অতীতে গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা থাকলেও এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটারদের ভোটদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ছিল না।

নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় কোনো উত্তেজনা তৈরি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।

সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে প্রশাসনের কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। এ সময় প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সামনে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন এবং তরুণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতে বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নতুনভাবে গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে অপশাসন আর ফিরে আসবে না: প্রধান উপদেষ্টা

Update Time : ০৬:০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না এবং দেশ এক নতুন পথে এগোবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সামনে যে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

সোমবার সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য দেন এবং পরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; সেগুলো ছিল ভুয়া নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনবে। তার মতে, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। অতীতে গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা থাকলেও এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটারদের ভোটদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ছিল না।

নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় কোনো উত্তেজনা তৈরি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।

সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে প্রশাসনের কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। এ সময় প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সামনে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন এবং তরুণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতে বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নতুনভাবে গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।





Source link