চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়শা আক্তার (৩০) নামে এক নারী মারা যান। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়শা আক্তার মারা যান। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ ছিল। বর্তমানে একই হাসপাতালে পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বাসায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন সপরিবারে থাকতেন। দুর্ঘটনায় শাখাওয়াতের স্ত্রী নূরজাহান সোমবারই মারা যান। মঙ্গলবার মারা গেছেন তার ছেলে সাফায়াত, পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির এবং সামিরের স্ত্রী আয়শা আক্তার।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কেজিডিসিএল-এর চার সদস্যের কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক আলামত বিশ্লেষণ করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ এবং ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, গ্যাস লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলীর মতে, রান্নার ঘরের জানালা খোলা থাকা সত্ত্বেও পুরো ভবনের দরজা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। তদন্ত শেষ হলেই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

























