ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজধানী ঢাকা জুড়ে একটি চমৎকার ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের কথা বলেছিলেন এবং বর্তমানে দেশবাসী একটি ঐতিহাসিক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রাজধানীর কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনের একটি তিক্ত স্মৃতির কথা স্মরণ করে ডিএমপি কমিশনার বর্তমান পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এলে গেটেই তাঁকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। সেই তুলনায় এবারের পরিবেশকে তিনি ‘অকল্পনীয় সুন্দর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
গুজব ছড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে না বা সহিংসতা হবে বলে অনেক আগে থেকেই অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোটাররা কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই কেন্দ্রে এসে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন।
ভোট পরবর্তী সহিংসতার সম্ভাবনা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, তারা তা মেনে নেবে। যেহেতু অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে, তাই ফলাফল ঘোষণার পর কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন।
তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সুন্দর পরিবেশে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৫৮৪ জন। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রথম আড়াই ঘণ্টায় প্রায় ১১ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা ভোটারদের যথাযথ সহায়তা প্রদান করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।




















