Dhaka ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার সংগ্রহ ৩ বিলিয়ন ছাড়ালো

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩ Time View


দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ ডিসেম্বর নিলামের মাধ্যমে সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে কেবল ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের কৌশলের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার আওতায় মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। যখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি থাকে এবং চাহিদা কম থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে দাম খুব বেশি কমতে দেয় না। আবার চাহিদা বাড়লে ডলার বিক্রির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হয়।

ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় কিছুটা কমে আসায় বাজারে চাপ কমেছে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রম মন্থর হওয়ায় এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদায় টান পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডলারের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা থাকলেও আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আমদানিতে শ্লথগতির প্রতিফলন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাজারে ডলার সরবরাহের অন্যতম উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিসেম্বর দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলার-সংকট কাটাতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার সংগ্রহ ৩ বিলিয়ন ছাড়ালো

Update Time : ০১:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬


দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ ডিসেম্বর নিলামের মাধ্যমে সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে কেবল ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের কৌশলের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার আওতায় মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। যখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি থাকে এবং চাহিদা কম থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে দাম খুব বেশি কমতে দেয় না। আবার চাহিদা বাড়লে ডলার বিক্রির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হয়।

ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় কিছুটা কমে আসায় বাজারে চাপ কমেছে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রম মন্থর হওয়ায় এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদায় টান পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডলারের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা থাকলেও আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আমদানিতে শ্লথগতির প্রতিফলন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাজারে ডলার সরবরাহের অন্যতম উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিসেম্বর দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলার-সংকট কাটাতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।