Dhaka ১০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি আগামী মাসের শেষে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২ Time View


বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, আগামী মাসের শেষ নাগাত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাপানের সঙ্গে এই ইপিএ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। অন্যদিকে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘তীব্র দর-কষাকষির মাধ্যমে আমরা জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছি। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আজ আমার ফোনে কথা হয়েছে। আগামী মাসে ইপিএ স্বাক্ষর হবে। এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের বিনিয়োগ আকর্ষিত হবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।’

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের শেষে এই চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আট দফা বৈঠক শেষে তা চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ধরনের ইপিএ আমরা আগে কখনো করিনি। যে কারণে এ ক্ষেত্রে কী করতে হয়, সেটাও আমাদের সেভাবে জানা ছিল না। এই সরকারের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা সেটা পেরেছি। নিঃসন্দেহে, এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো চুক্তি।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। তবে এ দেশে জাপানের বিনিয়োগ মাত্র ৫০ কোটি ডলার। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জাপানের বিনিয়োগের তুলনায় এটি খুবই অল্প। আগে যখন আমরা জাপানের কাছে বেশি বিনিয়োগ চেয়েছি, তখন এ ধরনের (অর্থনৈতিক চুক্তি) কাঠামো ছিল না, ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতো।

চৌধুরী আশিক আরও বলেন, বাংলাদেশকে সব সময় ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিন্তু ভিয়েতনামের ৩০টি দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে। আমরা মাত্র শুরু করছি। তার আশা, ভবিষ্যতে আরও অনেক অর্থনৈতিক চুক্তি করা যাবে। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আমাদের জন্য সহজ হবে।

জানা গেছে, উভয় দেশের উপদেষ্টা পরিষদ/মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন ও পরবর্তী আইনগত ধাপগুলো সম্পন্ন করার পর আগামী মাসে চুক্তিটি সই হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ হলো দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের পরিসর বা এফটিএ তৈরির পরিকল্পনা। মুক্ত বাণিজ্যের পরিসরে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা অপসারণ, আমদানি কোটা সংশোধন, শুল্ক বাধা অপসারণ, একে অন্যের সঙ্গে পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

 

 





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি আগামী মাসের শেষে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

Update Time : ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫


বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, আগামী মাসের শেষ নাগাত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাপানের সঙ্গে এই ইপিএ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। অন্যদিকে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘তীব্র দর-কষাকষির মাধ্যমে আমরা জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছি। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আজ আমার ফোনে কথা হয়েছে। আগামী মাসে ইপিএ স্বাক্ষর হবে। এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের বিনিয়োগ আকর্ষিত হবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।’

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের শেষে এই চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আট দফা বৈঠক শেষে তা চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ধরনের ইপিএ আমরা আগে কখনো করিনি। যে কারণে এ ক্ষেত্রে কী করতে হয়, সেটাও আমাদের সেভাবে জানা ছিল না। এই সরকারের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা সেটা পেরেছি। নিঃসন্দেহে, এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো চুক্তি।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। তবে এ দেশে জাপানের বিনিয়োগ মাত্র ৫০ কোটি ডলার। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জাপানের বিনিয়োগের তুলনায় এটি খুবই অল্প। আগে যখন আমরা জাপানের কাছে বেশি বিনিয়োগ চেয়েছি, তখন এ ধরনের (অর্থনৈতিক চুক্তি) কাঠামো ছিল না, ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতো।

চৌধুরী আশিক আরও বলেন, বাংলাদেশকে সব সময় ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিন্তু ভিয়েতনামের ৩০টি দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে। আমরা মাত্র শুরু করছি। তার আশা, ভবিষ্যতে আরও অনেক অর্থনৈতিক চুক্তি করা যাবে। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আমাদের জন্য সহজ হবে।

জানা গেছে, উভয় দেশের উপদেষ্টা পরিষদ/মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন ও পরবর্তী আইনগত ধাপগুলো সম্পন্ন করার পর আগামী মাসে চুক্তিটি সই হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ হলো দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের পরিসর বা এফটিএ তৈরির পরিকল্পনা। মুক্ত বাণিজ্যের পরিসরে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা অপসারণ, আমদানি কোটা সংশোধন, শুল্ক বাধা অপসারণ, একে অন্যের সঙ্গে পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

 

 





Source link