Dhaka ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, সচেতন হওয়ার আহ্বান

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ Time View


দেশে তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে চলেছে, এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ২১৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংক্রমণের হার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেক্টেবল ড্রাগের ব্যবহার, কনডমের মতো সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার না করা, এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব— তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য কারণ।

সামাজিক ও পরিবার পর্যায়ে যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সীমিত আলোচনা তরুণদের মধ্যে কৌতূহল ও ভুল ধারণাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণ বলেন, ‘অন্যের ব্যবহৃত সুচ এমন ভীষণ ঝুঁকির আমি জানতাম না; জানলে কখনোই করতাম না।’

আরও এক তরুণের মতে, আমাদের নিয়ে সমাজে শুধু নৈতিকতার কথা চলে, নিরাপত্তার কথা খুব কমই বলা হয়।

ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানান, ‘তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চের চাহিদা বহু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরিচালিত করছে।’ সচেতনতা ও নিরাপদ যৌন আচরণের শিক্ষাই এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানান এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

এইচআইভি সংক্রমণের এমন হার নিয়ন্ত্রণে সামাজিক লজ্জা ভাঙা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা জোরদার এবং তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত ওষুধ নিলে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যায়।’

তিনি বলেন, ‘নিয়মিত চিকিৎসায় এইচআইভি–আক্রান্তরা প্রায় স্বাভাবিক জীবন কাটাতে সক্ষম হন। তবু অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করাতে চান না। সামাজিক লজ্জা ও ভয় অনেকেই চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন।’

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এইডস আক্রান্ত এক তরুণ বলেন, ‘আমি এখন নিয়মিত ওষুধ নিচ্ছি, কিন্তু আমার মতো ভুল আর কেউ যেন না করে।’

তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে, কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেন সঠিকভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তা নিশ্চিত করে।’

সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক ধারণার অভাব রয়েছে।

মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রযুক্তির কারণে তরুণদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো বাধাহীনভাবে পৌঁছছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।’





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, সচেতন হওয়ার আহ্বান

Update Time : ১১:৫১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দেশে তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে চলেছে, এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ২১৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংক্রমণের হার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেক্টেবল ড্রাগের ব্যবহার, কনডমের মতো সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার না করা, এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব— তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য কারণ।

সামাজিক ও পরিবার পর্যায়ে যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সীমিত আলোচনা তরুণদের মধ্যে কৌতূহল ও ভুল ধারণাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণ বলেন, ‘অন্যের ব্যবহৃত সুচ এমন ভীষণ ঝুঁকির আমি জানতাম না; জানলে কখনোই করতাম না।’

আরও এক তরুণের মতে, আমাদের নিয়ে সমাজে শুধু নৈতিকতার কথা চলে, নিরাপত্তার কথা খুব কমই বলা হয়।

ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানান, ‘তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চের চাহিদা বহু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরিচালিত করছে।’ সচেতনতা ও নিরাপদ যৌন আচরণের শিক্ষাই এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানান এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

এইচআইভি সংক্রমণের এমন হার নিয়ন্ত্রণে সামাজিক লজ্জা ভাঙা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা জোরদার এবং তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত ওষুধ নিলে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যায়।’

তিনি বলেন, ‘নিয়মিত চিকিৎসায় এইচআইভি–আক্রান্তরা প্রায় স্বাভাবিক জীবন কাটাতে সক্ষম হন। তবু অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করাতে চান না। সামাজিক লজ্জা ও ভয় অনেকেই চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন।’

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এইডস আক্রান্ত এক তরুণ বলেন, ‘আমি এখন নিয়মিত ওষুধ নিচ্ছি, কিন্তু আমার মতো ভুল আর কেউ যেন না করে।’

তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে, কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেন সঠিকভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তা নিশ্চিত করে।’

সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক ধারণার অভাব রয়েছে।

মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রযুক্তির কারণে তরুণদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো বাধাহীনভাবে পৌঁছছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।’





Source link