Dhaka ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ দেড় বছর পর সচল হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ Time View


দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হয়েছে ঢাকা-আগরতলা- কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর বাস ডিপো থেকে ‘রয়্যাল মৈত্রী’র একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘রয়্যাল মৈত্রী’ সার্ভিসের কর্মকর্তা প্রশান্ত শীল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ ছিল। মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন এক আবহে এই বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশান্ত শীল জানান, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে বাস চলাচল করবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে এবং যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে নিয়মিতভাবে সপ্তাহে তিন দিন এই পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, সপ্তাহে শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে আগরতলার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যাবে। অপরদিকে আগরতলা থেকে ছেড়ে আসবে রবি, বুধ ও শুক্রবার। অপরদিকে কমলাপুর থেকে কলকাতার বাস চলবে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার।

এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে। সাধারণত আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ঢাকা হয়ে সরাসরি বাসে এই দূরত্ব কমে মাত্র ৫০০ কিলোমিটারে নেমে আসে, যা যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে।

অপরদিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই নতুন গতির প্রশংসা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। এছাড়া রাজ্য সরকারের পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আগরতলায় গণমাধ্যমকে জানান, এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মৈত্রী ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার প্রতীক। তিনি মনে করেন, যাতায়াতের এই মাধ্যমটি কেবল দুই দেশের জনগণকে কাছে আনবে না, বরং পর্যটন ও ব্যবসা- বাণিজ্যের প্রসারেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য উভয় দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ থাকা অপরিহার্য এবং এই সংযোগ সেই পথকে আরো সুগম করবে।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

দীর্ঘ দেড় বছর পর সচল হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

Update Time : ০৮:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হয়েছে ঢাকা-আগরতলা- কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর বাস ডিপো থেকে ‘রয়্যাল মৈত্রী’র একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘রয়্যাল মৈত্রী’ সার্ভিসের কর্মকর্তা প্রশান্ত শীল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ ছিল। মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন এক আবহে এই বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশান্ত শীল জানান, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে বাস চলাচল করবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে এবং যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে নিয়মিতভাবে সপ্তাহে তিন দিন এই পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, সপ্তাহে শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে আগরতলার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যাবে। অপরদিকে আগরতলা থেকে ছেড়ে আসবে রবি, বুধ ও শুক্রবার। অপরদিকে কমলাপুর থেকে কলকাতার বাস চলবে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার।

এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে। সাধারণত আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ঢাকা হয়ে সরাসরি বাসে এই দূরত্ব কমে মাত্র ৫০০ কিলোমিটারে নেমে আসে, যা যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে।

অপরদিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই নতুন গতির প্রশংসা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। এছাড়া রাজ্য সরকারের পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আগরতলায় গণমাধ্যমকে জানান, এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মৈত্রী ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার প্রতীক। তিনি মনে করেন, যাতায়াতের এই মাধ্যমটি কেবল দুই দেশের জনগণকে কাছে আনবে না, বরং পর্যটন ও ব্যবসা- বাণিজ্যের প্রসারেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য উভয় দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ থাকা অপরিহার্য এবং এই সংযোগ সেই পথকে আরো সুগম করবে।





Source link