Dhaka ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গোপন শুল্ক চুক্তি নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, উদ্বেগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ Time View


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়বে। অথচ চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির বিষয়বস্তু গোপন রাখার শর্তে আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে। ফলে কী কী শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চুক্তিতে, তা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অজানা থেকে গেছে। এই গোপনীয়তাই উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তির মাধ্যমে দেশটির রপ্তানি খাতে সুবিধা আসতে পারে। তবে সেই সুবিধার বিনিময়ে কী ধরনের শর্ত মানতে হবে এবং তা বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও বাজারে কী প্রভাব ফেলবে-এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি।

তিনি জানান, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে কারা লাভবান হবেন এবং কারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন-তা না জেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশে নামতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও নির্বাচনের ঠিক আগে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি বিস্মিত করেছে তাকে।

রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, চুক্তির খসড়া সম্পর্কে কিছুই জানা না থাকায় মন্তব্য করা কঠিন। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এটি শুধু একটি শুল্ক চুক্তি নয়; বরং এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চুক্তিটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না এবং খসড়া গোপন রাখায় এর ভালো-মন্দ বিশ্লেষণের সুযোগ নেই। তাঁর মতে, নির্বাচনের পরে চুক্তি হলে রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারত।

তার মতে, চুক্তিটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে হচ্ছে না এবং খসড়া গোপনীয় বলে এর ভালো-মন্দ বিচার করার সুযোগও তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডর চালুর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে এসেছে সরকার। বন্দরের মতো কিছু আবার চুপেচাপে করেও ফেলেছে। তবে শুল্ক চুক্তিটি নির্বাচনের পরে হলে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করতে পারত। যে নির্বাচিত সরকার আসছে, তার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা-ও ভাবার বিষয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎস বিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করতে চায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার, বিপরীতে আমদানি প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। এই ব্যবধান কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য বাংলাদেশি বাজার আরও উন্মুক্ত করার শর্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি অস্থায়ী সরকার ভোটের ঠিক আগে এমন চুক্তি করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চুক্তি সইয়ের সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো যেত। তা না করে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় নীতিসিদ্ধান্ত

অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়ায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। একই দিন বুড়িগঙ্গার তীরে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছর পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব চুক্তির ফলাফল দীর্ঘ সময় সময় ধরে বাংলাদেশের ওপর পড়বে।

এদিকে সোমবার বিকেলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তার বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকেরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

এ বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোনো অস্থায়ী সরকার ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এ ধরনের চুক্তি করেছে, সেই নজির বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে। তার বদলে তাড়াহুড়া করে চুক্তি সই করলে প্রশ্ন উঠবেই।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গোপন শুল্ক চুক্তি নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, উদ্বেগ

Update Time : ০৫:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়বে। অথচ চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির বিষয়বস্তু গোপন রাখার শর্তে আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে। ফলে কী কী শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চুক্তিতে, তা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অজানা থেকে গেছে। এই গোপনীয়তাই উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তির মাধ্যমে দেশটির রপ্তানি খাতে সুবিধা আসতে পারে। তবে সেই সুবিধার বিনিময়ে কী ধরনের শর্ত মানতে হবে এবং তা বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও বাজারে কী প্রভাব ফেলবে-এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি।

তিনি জানান, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে কারা লাভবান হবেন এবং কারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন-তা না জেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশে নামতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও নির্বাচনের ঠিক আগে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি বিস্মিত করেছে তাকে।

রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, চুক্তির খসড়া সম্পর্কে কিছুই জানা না থাকায় মন্তব্য করা কঠিন। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এটি শুধু একটি শুল্ক চুক্তি নয়; বরং এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চুক্তিটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না এবং খসড়া গোপন রাখায় এর ভালো-মন্দ বিশ্লেষণের সুযোগ নেই। তাঁর মতে, নির্বাচনের পরে চুক্তি হলে রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারত।

তার মতে, চুক্তিটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে হচ্ছে না এবং খসড়া গোপনীয় বলে এর ভালো-মন্দ বিচার করার সুযোগও তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডর চালুর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে এসেছে সরকার। বন্দরের মতো কিছু আবার চুপেচাপে করেও ফেলেছে। তবে শুল্ক চুক্তিটি নির্বাচনের পরে হলে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করতে পারত। যে নির্বাচিত সরকার আসছে, তার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা-ও ভাবার বিষয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎস বিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করতে চায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার, বিপরীতে আমদানি প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। এই ব্যবধান কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য বাংলাদেশি বাজার আরও উন্মুক্ত করার শর্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি অস্থায়ী সরকার ভোটের ঠিক আগে এমন চুক্তি করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চুক্তি সইয়ের সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো যেত। তা না করে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় নীতিসিদ্ধান্ত

অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়ায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। একই দিন বুড়িগঙ্গার তীরে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছর পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব চুক্তির ফলাফল দীর্ঘ সময় সময় ধরে বাংলাদেশের ওপর পড়বে।

এদিকে সোমবার বিকেলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তার বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকেরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

এ বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোনো অস্থায়ী সরকার ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এ ধরনের চুক্তি করেছে, সেই নজির বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে। তার বদলে তাড়াহুড়া করে চুক্তি সই করলে প্রশ্ন উঠবেই।





Source link