Dhaka ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকের ১৪ হাজার পদের জন্য লড়ছেন ১০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯ Time View


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানিয়েছে, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান বাদে দেশের সব জেলায় ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নিয়োগে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন চাকরিপ্রার্থী। সেই হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী লড়াই করবেন। 

অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের জন্য ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের জন্য ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরপর কোনো পরীক্ষার্থীকে আর ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। 

কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নারী ও পুরুষ পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে এবং প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। বিশেষ সতর্কতাস্বরূপ ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে টর্চলাইট দিয়ে কান পরীক্ষা করা হবে। কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ বা যেকোনো ধরনের ঘড়ি ও ব্যাগ বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও জালিয়াতি রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সামগ্রী কারও কাছে পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। পরীক্ষার ওএমআর শিট পূরণের ক্ষেত্রে কেবল কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে; পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। 

পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র—উভয়ই পরিদর্শকের কাছে জমা দিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সার্বিক পরীক্ষা তদারকি করবে। ভুয়া পরীক্ষার্থী বা জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে তাদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারছেন। প্রার্থীরা ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসির রোল ও পাসের সন ব্যবহার করে লগইন করতে পারবেন। পরীক্ষার্থীদের আবেদনে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে ইতিমধ্যে ০১৫৫২-১৪৬০৫৬ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়েছে। 

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি এবং মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড সঙ্গে আনতে হবে। সফলভাবে আবেদন করা প্রার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এবং নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

প্রাথমিকের ১৪ হাজার পদের জন্য লড়ছেন ১০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী

Update Time : ০৭:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানিয়েছে, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান বাদে দেশের সব জেলায় ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নিয়োগে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন চাকরিপ্রার্থী। সেই হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী লড়াই করবেন। 

অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের জন্য ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের জন্য ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরপর কোনো পরীক্ষার্থীকে আর ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। 

কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নারী ও পুরুষ পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে এবং প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। বিশেষ সতর্কতাস্বরূপ ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে টর্চলাইট দিয়ে কান পরীক্ষা করা হবে। কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ বা যেকোনো ধরনের ঘড়ি ও ব্যাগ বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও জালিয়াতি রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সামগ্রী কারও কাছে পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। পরীক্ষার ওএমআর শিট পূরণের ক্ষেত্রে কেবল কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে; পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। 

পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র—উভয়ই পরিদর্শকের কাছে জমা দিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সার্বিক পরীক্ষা তদারকি করবে। ভুয়া পরীক্ষার্থী বা জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে তাদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারছেন। প্রার্থীরা ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসির রোল ও পাসের সন ব্যবহার করে লগইন করতে পারবেন। পরীক্ষার্থীদের আবেদনে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে ইতিমধ্যে ০১৫৫২-১৪৬০৫৬ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়েছে। 

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি এবং মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড সঙ্গে আনতে হবে। সফলভাবে আবেদন করা প্রার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এবং নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।