Dhaka ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ প্রার্থী

Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১ Time View


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রোববারের (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১ জেলায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। 

প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এবং উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুসরণ করে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর দীর্ঘ পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে আজ চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলো।

নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। 

এ ছাড়া আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে সকল মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন কপি পূরণকৃত পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম এবং স্বাস্থ্যগত সনদসহ প্রার্থীদের সশরীরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হতে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে নথিপত্র জমা দিতে বা সশরীরে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো প্রার্থী ভুল তথ্য প্রদান করেন বা কোনো তথ্য গোপন করেন, তবে তাঁর প্রাথমিক নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। 

এ ছাড়াও পুলিশ ভেরিফিকেশনে যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট আসে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি চূড়ান্তভাবে চাকরিতে যোগদানের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা বা নির্ধারিত তারিখ অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ হারাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর তাঁদের নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। 

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, জেলাভিত্তিক এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বজায় রাখা সম্ভব হবে। নতুন এই নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ প্রার্থী

Update Time : ০১:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রোববারের (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১ জেলায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। 

প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এবং উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুসরণ করে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর দীর্ঘ পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে আজ চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলো।

নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। 

এ ছাড়া আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে সকল মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন কপি পূরণকৃত পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম এবং স্বাস্থ্যগত সনদসহ প্রার্থীদের সশরীরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হতে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে নথিপত্র জমা দিতে বা সশরীরে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো প্রার্থী ভুল তথ্য প্রদান করেন বা কোনো তথ্য গোপন করেন, তবে তাঁর প্রাথমিক নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। 

এ ছাড়াও পুলিশ ভেরিফিকেশনে যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট আসে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি চূড়ান্তভাবে চাকরিতে যোগদানের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা বা নির্ধারিত তারিখ অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ হারাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর তাঁদের নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। 

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, জেলাভিত্তিক এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বজায় রাখা সম্ভব হবে। নতুন এই নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।