Dhaka ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বছরের ২৩৫ দিনেই আন্দোলনে শিক্ষকরা

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬ Time View


বছর জুড়ে চরম সংকট, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে দেশের শিক্ষাখাত। ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৩৫ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাব, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, শাহবাগ, শিক্ষা ভবনের সামনের সড়কসহ রাজপথে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিলসহ আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার শিকারও হয়েছেন শিক্ষকরা।

অতীতে কখনো এক বছরে শিক্ষকদের এত আন্দোলনের নজির নেই। বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড উন্নয়ন, জাতীয়করণ ও এমপিওসহ নানা দাবিতে শিক্ষকরা ২০২৫ সালে দীর্ঘদিন পাঠদান বন্ধ রাখায় প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী নজিরবিহীন শিখন-ঘাটতির কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



শিক্ষাবিদরা বলেন, বর্তমানে যারা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আছে তাদের বড় অংশের মধ্যেই করোনাকালীন শিখন-ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে আবার দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ শিখন-ঘাটতি। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিখন-ঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে—যা অশনি সংকেত। কারণ আগের ক্লাসের শিখন-ঘাটতির কারণে তারা নতুন শ্রেণির পাঠ ঠিকমতো বুঝতে পারবে না।

২০২৫ সাল জুড়ে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। বছরের শুরুতে সময়মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন মাস পর ধীরে ধীরে সেই সংকট কাটলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে নিয়মিত পাঠদান প্রক্রিয়ায়। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।



দীর্ঘ ১২ বছর পর অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণায় কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও প্রাথমিক স্তরের বৃত্তি পরীক্ষা আইনি জটিলতায় আটকে যায়। বই বিতরণে বিলম্ব, ফল বিপর্যয়, ধারাবাহিক শিক্ষক আন্দোলন এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা—সবকিছু মিলিয়ে পুরো বছর জুড়ে শিক্ষাখাত চরম চাপের মুখে ছিল। যা এই খাতের ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জগুলোকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বছরের শুরুর দিকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক অস্থিরতা দেখা দেয়। কোথাও উপাচার্য অপসারণ, কোথাও নাম পরিবর্তনের দাবি, আবার কোথাও আবাসন-সংকটের মতো বিষয় নিয়ে আন্দোলন হয়। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন থামে তো আরেকটিতে শুরু হয়। বেশ কিছু দিন ধরে অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম, তৈরি হয় প্রশাসনিক জটিলতাও। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা।

৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়েছে মাত্র ৯২ দিন
এক বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র ৯২ দিন ক্লাস পেয়েছে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী। ছুটি ও পরীক্ষার পাশাপাশি কখনো শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন, কমপ্লিট শাটডাউন, কখনো বিক্ষোভ-সমাবেশের কারণে ঠিকমতো ক্লাস হয়নি।



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সরকারি ছুটি ছিল ৭৬ দিন। সপ্তাহে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসেবে আরো ১০৪ দিন ছুটি। এতে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৮০ দিন বন্ধ। বাকি থাকে ১৮৫ দিন। এর মধ্যে চলতি বছর দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা ৪০ দিন কর্মবিরতি পালন করেন। এর মধ্যে পূর্ণদিবস ১৬ দিন। আর অর্ধদিবস ২৪ দিন। কর্মবিরতির দিনগুলো বাদ দিলে অবশিষ্ট থাকে ১৪৫ দিন। এর মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ২৭ দিন। পরীক্ষার দিনগুলো বাদ দিলে থাকে ১১৬ দিন। শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির কারণে আরো ১১ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ছিল। এতে ক্লাস হয়েছে এমন দিনের সংখ্যা নেমে আসে ১০৫ দিনে। কিন্তু এ বছর কমপক্ষে একটি করে পাঠ্যবই পেতেও শিক্ষার্থীদের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফলে ক্লাস হয়েছে, এমন দিনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯২ দিন। 

চার দাবিতে দুই দিন পাঠদান বন্ধ করে ৭২১ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের বিক্ষোভ
নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, দ্রুত স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠনসহ চার দাবিতে গত এক ও দুই ডিসেম্বর টানা দুই দিন বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ কর্মবিরতি পালন করেছেন ৭২১ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা রাজধানীতে বিক্ষোভকর্মসূচিও পালন করেন। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১।

৯৬ লাখ শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ করে ১৪ দিন আন্দোলন করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ১৪ দিন ক্লাস বন্ধ করে আন্দোলন করেন। গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করেন। ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। একই দিন বিকালে তারা জনভোগান্তি এড়াতে প্রেস ক্লাব ছেড়ে শহিদ মিনারে অবস্থান নেন।



গত ২১ অক্টোবর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ পাবেন। তবে এ অর্থ দুই ধাপে পাবেন তারা। চলতি অর্থবছরে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়ে শিক্ষকরা ২২ অক্টোবর থেকে ক্লাসে ফেরেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর অর্ধদিবস এবং ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। এদিকে আন্দোলনকালে পুলিশি হামলায় কয়েক শ শিক্ষক আহত হয়ে এখনো শ্রেণিকক্ষে ফেরেননি। মাধ্যমিক স্তরে বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৭লাখ ৪১ হাজার ৪৮০ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮ লাখ ২৬ হাজার ৪৭১।

৬৬ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে ৫০ দিন পাঠদান বন্ধ করে রাজপথে আন্দোলন করেন শিক্ষকরা
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা ৫০ দিন পাঠদান বন্ধ করে রাজপথে আন্দোলন করেন। ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এই কর্মসূচি চলে। শিক্ষকরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।



১২ মার্চ শিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় ২ নভেম্বর থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বেসরকারি খাতে বর্তমানে ৯২ হাজার ৩৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাসিক পে-অর্ডার (এমপিও) সুবিধাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ২৬ হাজার ১০৪টি। বাকি ৬৬ হাজার ২৮৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয়। অর্থাৎ বেসরকারি খাতের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৩.৬ শতাংশই এমপিও সুবিধার বাইরে।

৫২ দিন প্রেস ক্লাবের সামনে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অবস্থান
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৫২ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিদপ্তরের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করাসহ পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন।



গত ১০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যৌক্তিক দাবি মেনে অনুদান পাওয়া ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। অন্য মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন পর্যায়ক্রমে হবে বলে জানিয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। মাদ্রাসা ধারায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৬২৭ জন।

পাঠদান বন্ধ করে টানা ৪০ দিন প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
দেশের সব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে পাঠদান বন্ধ করে টানা ৪০ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় তাদের।



শিক্ষকরা জানান, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করে। মোট ২ হাজার ৭৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৭৭২টি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু সেটি আরো আলোর মুখ দেখেনি।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৩০ দিনের আন্দোলন
এদিকে ২০১৩ সালে সারা দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সমান যোগ্যতা থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের চলমান যোগ্য ৪ হাজারের অধিক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ২০ দিনের বেশি আন্দোলন করেন।



বিভিন্ন দফায় আন্দোলন ও আশ্বাসের পর আবার গত ২ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। টানা ১০ দিন তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। 

সাত কলেজ শিক্ষকদের সাত দিনের আন্দোলন
বিভিন্ন দাবি নিয়ে সাত কলেজের শিক্ষকরা সাত দিন আন্দোলন করেছেন। এ সময় ক্লাস হয়নি। এর মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর টানা তিন দিন ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকেরা বলেন, ঢাকার এই সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নামে ভর্তি ও ক্লাস শুরু করা নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটি আইনসিদ্ধ নয়। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতির কারণেই তারা পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ক্লাস বন্ধ করে সাত দিন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষকরা।

একযুগ পর ফিরেছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা
দীর্ঘ ১২ বছর পর অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ফের চালু হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। ২০২৫ সালে এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই পাঁচ বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সারা দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আইনি জটিলতায় স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা
২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তা শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। নীতিমালায় শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত এক মাসের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা এবং বিকল্প ‘মেধা যাচাই পরীক্ষা’ স্থগিতের আদেশ দেন। আদালত ২০০৮ সালের নীতিমালার আলোকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বছরের ২৩৫ দিনেই আন্দোলনে শিক্ষকরা

Update Time : ০১:৩১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫


বছর জুড়ে চরম সংকট, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে দেশের শিক্ষাখাত। ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৩৫ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাব, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, শাহবাগ, শিক্ষা ভবনের সামনের সড়কসহ রাজপথে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিলসহ আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার শিকারও হয়েছেন শিক্ষকরা।

অতীতে কখনো এক বছরে শিক্ষকদের এত আন্দোলনের নজির নেই। বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড উন্নয়ন, জাতীয়করণ ও এমপিওসহ নানা দাবিতে শিক্ষকরা ২০২৫ সালে দীর্ঘদিন পাঠদান বন্ধ রাখায় প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী নজিরবিহীন শিখন-ঘাটতির কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



শিক্ষাবিদরা বলেন, বর্তমানে যারা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আছে তাদের বড় অংশের মধ্যেই করোনাকালীন শিখন-ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে আবার দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ শিখন-ঘাটতি। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিখন-ঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে—যা অশনি সংকেত। কারণ আগের ক্লাসের শিখন-ঘাটতির কারণে তারা নতুন শ্রেণির পাঠ ঠিকমতো বুঝতে পারবে না।

২০২৫ সাল জুড়ে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। বছরের শুরুতে সময়মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন মাস পর ধীরে ধীরে সেই সংকট কাটলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে নিয়মিত পাঠদান প্রক্রিয়ায়। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।



দীর্ঘ ১২ বছর পর অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণায় কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও প্রাথমিক স্তরের বৃত্তি পরীক্ষা আইনি জটিলতায় আটকে যায়। বই বিতরণে বিলম্ব, ফল বিপর্যয়, ধারাবাহিক শিক্ষক আন্দোলন এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা—সবকিছু মিলিয়ে পুরো বছর জুড়ে শিক্ষাখাত চরম চাপের মুখে ছিল। যা এই খাতের ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জগুলোকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বছরের শুরুর দিকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক অস্থিরতা দেখা দেয়। কোথাও উপাচার্য অপসারণ, কোথাও নাম পরিবর্তনের দাবি, আবার কোথাও আবাসন-সংকটের মতো বিষয় নিয়ে আন্দোলন হয়। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন থামে তো আরেকটিতে শুরু হয়। বেশ কিছু দিন ধরে অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম, তৈরি হয় প্রশাসনিক জটিলতাও। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা।

৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়েছে মাত্র ৯২ দিন
এক বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র ৯২ দিন ক্লাস পেয়েছে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী। ছুটি ও পরীক্ষার পাশাপাশি কখনো শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন, কমপ্লিট শাটডাউন, কখনো বিক্ষোভ-সমাবেশের কারণে ঠিকমতো ক্লাস হয়নি।



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সরকারি ছুটি ছিল ৭৬ দিন। সপ্তাহে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসেবে আরো ১০৪ দিন ছুটি। এতে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৮০ দিন বন্ধ। বাকি থাকে ১৮৫ দিন। এর মধ্যে চলতি বছর দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা ৪০ দিন কর্মবিরতি পালন করেন। এর মধ্যে পূর্ণদিবস ১৬ দিন। আর অর্ধদিবস ২৪ দিন। কর্মবিরতির দিনগুলো বাদ দিলে অবশিষ্ট থাকে ১৪৫ দিন। এর মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ২৭ দিন। পরীক্ষার দিনগুলো বাদ দিলে থাকে ১১৬ দিন। শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির কারণে আরো ১১ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ছিল। এতে ক্লাস হয়েছে এমন দিনের সংখ্যা নেমে আসে ১০৫ দিনে। কিন্তু এ বছর কমপক্ষে একটি করে পাঠ্যবই পেতেও শিক্ষার্থীদের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফলে ক্লাস হয়েছে, এমন দিনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯২ দিন। 

চার দাবিতে দুই দিন পাঠদান বন্ধ করে ৭২১ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের বিক্ষোভ
নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, দ্রুত স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠনসহ চার দাবিতে গত এক ও দুই ডিসেম্বর টানা দুই দিন বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ কর্মবিরতি পালন করেছেন ৭২১ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা রাজধানীতে বিক্ষোভকর্মসূচিও পালন করেন। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১।

৯৬ লাখ শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ করে ১৪ দিন আন্দোলন করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ১৪ দিন ক্লাস বন্ধ করে আন্দোলন করেন। গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করেন। ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। একই দিন বিকালে তারা জনভোগান্তি এড়াতে প্রেস ক্লাব ছেড়ে শহিদ মিনারে অবস্থান নেন।



গত ২১ অক্টোবর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ পাবেন। তবে এ অর্থ দুই ধাপে পাবেন তারা। চলতি অর্থবছরে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়ে শিক্ষকরা ২২ অক্টোবর থেকে ক্লাসে ফেরেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর অর্ধদিবস এবং ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। এদিকে আন্দোলনকালে পুলিশি হামলায় কয়েক শ শিক্ষক আহত হয়ে এখনো শ্রেণিকক্ষে ফেরেননি। মাধ্যমিক স্তরে বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৭লাখ ৪১ হাজার ৪৮০ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮ লাখ ২৬ হাজার ৪৭১।

৬৬ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে ৫০ দিন পাঠদান বন্ধ করে রাজপথে আন্দোলন করেন শিক্ষকরা
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা ৫০ দিন পাঠদান বন্ধ করে রাজপথে আন্দোলন করেন। ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এই কর্মসূচি চলে। শিক্ষকরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।



১২ মার্চ শিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় ২ নভেম্বর থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বেসরকারি খাতে বর্তমানে ৯২ হাজার ৩৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাসিক পে-অর্ডার (এমপিও) সুবিধাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ২৬ হাজার ১০৪টি। বাকি ৬৬ হাজার ২৮৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয়। অর্থাৎ বেসরকারি খাতের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৩.৬ শতাংশই এমপিও সুবিধার বাইরে।

৫২ দিন প্রেস ক্লাবের সামনে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অবস্থান
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৫২ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিদপ্তরের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করাসহ পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন।



গত ১০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যৌক্তিক দাবি মেনে অনুদান পাওয়া ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। অন্য মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন পর্যায়ক্রমে হবে বলে জানিয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। মাদ্রাসা ধারায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৬২৭ জন।

পাঠদান বন্ধ করে টানা ৪০ দিন প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
দেশের সব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে পাঠদান বন্ধ করে টানা ৪০ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় তাদের।



শিক্ষকরা জানান, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করে। মোট ২ হাজার ৭৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৭৭২টি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু সেটি আরো আলোর মুখ দেখেনি।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৩০ দিনের আন্দোলন
এদিকে ২০১৩ সালে সারা দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সমান যোগ্যতা থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের চলমান যোগ্য ৪ হাজারের অধিক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ২০ দিনের বেশি আন্দোলন করেন।



বিভিন্ন দফায় আন্দোলন ও আশ্বাসের পর আবার গত ২ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। টানা ১০ দিন তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। 

সাত কলেজ শিক্ষকদের সাত দিনের আন্দোলন
বিভিন্ন দাবি নিয়ে সাত কলেজের শিক্ষকরা সাত দিন আন্দোলন করেছেন। এ সময় ক্লাস হয়নি। এর মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর টানা তিন দিন ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকেরা বলেন, ঢাকার এই সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নামে ভর্তি ও ক্লাস শুরু করা নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটি আইনসিদ্ধ নয়। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতির কারণেই তারা পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ক্লাস বন্ধ করে সাত দিন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষকরা।

একযুগ পর ফিরেছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা
দীর্ঘ ১২ বছর পর অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ফের চালু হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। ২০২৫ সালে এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই পাঁচ বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সারা দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আইনি জটিলতায় স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা
২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তা শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। নীতিমালায় শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত এক মাসের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা এবং বিকল্প ‘মেধা যাচাই পরীক্ষা’ স্থগিতের আদেশ দেন। আদালত ২০০৮ সালের নীতিমালার আলোকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।