Dhaka ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে সাবেকদের উদ্বেগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫ Time View


মোস্তাফিজকে বাধ্য হয়ে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। একজন মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাকে বাদ দিয়ে কেকেআরকে চিঠি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এমন ঘটনার পর বিসিসিআইয়ের কড়া সমালোচান করছে দেশের সাবেক ক্রীড়াবিদরা, কোচ ও সমর্থকরা। তাদের মতে, এক মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না বিসিসিআই, তারা কীভাবে পুরো দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচে কলকাতায় খেলবে বাংলাদেশ।

মোস্তাফিজ ও বিশ্বকাপ ইস্যু নিয়ে গতকাল কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি শঙ্কা দেখছেন ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে। আমিনুল বলছেন, ‘সামনে বিশ্বকাপ, সে ক্ষেত্রে আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে খেললে কিন্তু একটা শঙ্কার জায়গা থেকে যায়। সেই শঙ্কার জায়গাটা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে, ক্রিকেট বোর্ড এবং আমাদের সরকারের যারা দায়িত্বে রয়েছে তাদের কাছে ছেড়ে দিলাম। আপনারা দ্রুত সময়ে আলোচনা করে কীভাবে সুরাহা করা যায় দেখুন।’ 

বিপিএলে মোস্তাফিজ খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। আইপিএল ইস্যুতে মোস্তাফিজের পাশে আছি, বলে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রংপুরের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, ‘ক্রিকেট দেখে মেধা, দেশের সীমানা না। সুযোগ হয়তো কেড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু সম্মান অর্জন করে নিতে হয় মাঠেই। আমরা মোস্তাফিজের পাশে আছি।’

জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, সকালে মোস্তাফিজকে নিয়ে এমন সংবাদ শোনার পর অবাক হয়েছেন তিনি। তার মতে, খেলা আর রাজনীতি একসঙ্গে মেলানো উচিত না। তিনি বলেন, ‘যখন শুনতে পেলাম বিসিসিআই কেকেআর-কে বলেছে তাকে (মোস্তাফিজ) রিলিজ করে দেওয়ার জন্য। এটা শুনে অবাকই হয়েছি। আসলে ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতি মেলানো একদম উচিত না বলে আমি মনে করি। এইটা শুনে আসলে খারাপই লেগেছে।’ 

এছাড়া, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কোচ রাজিন সালেহ বলেন, ‘যেহেতু এক মোস্তাফিজকে তারা নিরাপত্তা না দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ টিম যখন যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে তখন কীভাবে কি হবে, এটা আমার বোধগম্য না।’ সেই সঙ্গে এই ঘটনাকে দেশের জন্য অপমানজনক উল্লেখ করে রাজিন সালেহ বলেন, ‘মোস্তাফিজ আমাদের প্রাণ, আমাদের একটা ব্র্যান্ড। এই জায়গায় তারাই ডেকে তারাই আবার বাদ দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য অপমান। এটা তাদের জন্যেও অপমানজনক। কেননা ডেকেছিল তারা আমরা তো বলি নাই যে আমাদের এখান থেকে আইপিএলে ডাকার জন্য।’ 

সেইসঙ্গে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে লিখেছেন, এ রকম একটা ‘উগ্র রাষ্ট্র’কে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত না। সরকার এবং বিসিবির যৌথ উদ্যোগে অপরাপর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অসংখ্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে যেখানে ভারতীয়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতা পূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।’ 

যদিও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল পাঠানো ও মোস্তাফিজের বিষয়ে আইসিসির জন্য কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবেন তারা।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে সাবেকদের উদ্বেগ

Update Time : ০৭:৫৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬


মোস্তাফিজকে বাধ্য হয়ে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। একজন মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাকে বাদ দিয়ে কেকেআরকে চিঠি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এমন ঘটনার পর বিসিসিআইয়ের কড়া সমালোচান করছে দেশের সাবেক ক্রীড়াবিদরা, কোচ ও সমর্থকরা। তাদের মতে, এক মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না বিসিসিআই, তারা কীভাবে পুরো দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচে কলকাতায় খেলবে বাংলাদেশ।

মোস্তাফিজ ও বিশ্বকাপ ইস্যু নিয়ে গতকাল কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি শঙ্কা দেখছেন ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে। আমিনুল বলছেন, ‘সামনে বিশ্বকাপ, সে ক্ষেত্রে আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে খেললে কিন্তু একটা শঙ্কার জায়গা থেকে যায়। সেই শঙ্কার জায়গাটা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে, ক্রিকেট বোর্ড এবং আমাদের সরকারের যারা দায়িত্বে রয়েছে তাদের কাছে ছেড়ে দিলাম। আপনারা দ্রুত সময়ে আলোচনা করে কীভাবে সুরাহা করা যায় দেখুন।’ 

বিপিএলে মোস্তাফিজ খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। আইপিএল ইস্যুতে মোস্তাফিজের পাশে আছি, বলে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রংপুরের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, ‘ক্রিকেট দেখে মেধা, দেশের সীমানা না। সুযোগ হয়তো কেড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু সম্মান অর্জন করে নিতে হয় মাঠেই। আমরা মোস্তাফিজের পাশে আছি।’

জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, সকালে মোস্তাফিজকে নিয়ে এমন সংবাদ শোনার পর অবাক হয়েছেন তিনি। তার মতে, খেলা আর রাজনীতি একসঙ্গে মেলানো উচিত না। তিনি বলেন, ‘যখন শুনতে পেলাম বিসিসিআই কেকেআর-কে বলেছে তাকে (মোস্তাফিজ) রিলিজ করে দেওয়ার জন্য। এটা শুনে অবাকই হয়েছি। আসলে ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতি মেলানো একদম উচিত না বলে আমি মনে করি। এইটা শুনে আসলে খারাপই লেগেছে।’ 

এছাড়া, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কোচ রাজিন সালেহ বলেন, ‘যেহেতু এক মোস্তাফিজকে তারা নিরাপত্তা না দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ টিম যখন যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে তখন কীভাবে কি হবে, এটা আমার বোধগম্য না।’ সেই সঙ্গে এই ঘটনাকে দেশের জন্য অপমানজনক উল্লেখ করে রাজিন সালেহ বলেন, ‘মোস্তাফিজ আমাদের প্রাণ, আমাদের একটা ব্র্যান্ড। এই জায়গায় তারাই ডেকে তারাই আবার বাদ দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য অপমান। এটা তাদের জন্যেও অপমানজনক। কেননা ডেকেছিল তারা আমরা তো বলি নাই যে আমাদের এখান থেকে আইপিএলে ডাকার জন্য।’ 

সেইসঙ্গে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে লিখেছেন, এ রকম একটা ‘উগ্র রাষ্ট্র’কে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত না। সরকার এবং বিসিবির যৌথ উদ্যোগে অপরাপর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অসংখ্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে যেখানে ভারতীয়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতা পূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।’ 

যদিও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল পাঠানো ও মোস্তাফিজের বিষয়ে আইসিসির জন্য কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবেন তারা।