Dhaka ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা আইনে বড় পরিবর্তন

Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২ Time View


দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর অবসর সুবিধা প্রাপ্তি আরো স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে বিদ্যমান আইনে বড় সংশোধনী এনে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন আইনে ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’কে অন্তর্ভুক্ত করাসহ পরিচালনা পর্ষদ ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে সোমবার ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন অধ্যাদেশে ২০০২ সালের মূল আইনের সংজ্ঞার পরিমার্জন ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আইনের ২ ধারায় সংশোধন এনে ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দের সঙ্গে ‘এমপিওভুক্ত’ কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কলেজের পাশাপাশি দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের সাথে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পরিচালনা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে আইনের ৬(১)(ড) ধারায় একজন পরিচালক রাখার কথা বলা হয়, যিনি পদাধিকারবলে বোর্ডের ‘সদস্য-সচিব’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও তিন জন কর্মচারী সদস্য হিসেবে থাকবেন। মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর।

শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো কারণে বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে পাওনা পরিশোধে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের অনুমোদনক্রমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদান করা যাবে। এছাড়া অধ্যাদেশে অবসর সুবিধাদি ‘প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘অনুমোদন ‘ শব্দটির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বলা হয়, বোর্ডের স্থায়ী তহবিলের অর্থ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড বা বিলে বিনিয়োগ করা যাবে। এই তহবিলের অর্থ বোর্ডের অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। তহবিল পরিচালনার পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে। সংশোধিত আইনের ১২(২) ধারা অনুযায়ী, বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন একজন ‘পরিচালক’। সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত এই কর্মকর্তা বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বোর্ডের কাজ পরিচালনার জন্য সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা আইনে বড় পরিবর্তন

Update Time : ১০:২৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর অবসর সুবিধা প্রাপ্তি আরো স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে বিদ্যমান আইনে বড় সংশোধনী এনে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন আইনে ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’কে অন্তর্ভুক্ত করাসহ পরিচালনা পর্ষদ ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে সোমবার ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন অধ্যাদেশে ২০০২ সালের মূল আইনের সংজ্ঞার পরিমার্জন ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আইনের ২ ধারায় সংশোধন এনে ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দের সঙ্গে ‘এমপিওভুক্ত’ কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কলেজের পাশাপাশি দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের সাথে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পরিচালনা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে আইনের ৬(১)(ড) ধারায় একজন পরিচালক রাখার কথা বলা হয়, যিনি পদাধিকারবলে বোর্ডের ‘সদস্য-সচিব’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও তিন জন কর্মচারী সদস্য হিসেবে থাকবেন। মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর।

শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো কারণে বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে পাওনা পরিশোধে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের অনুমোদনক্রমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদান করা যাবে। এছাড়া অধ্যাদেশে অবসর সুবিধাদি ‘প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘অনুমোদন ‘ শব্দটির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বলা হয়, বোর্ডের স্থায়ী তহবিলের অর্থ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড বা বিলে বিনিয়োগ করা যাবে। এই তহবিলের অর্থ বোর্ডের অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। তহবিল পরিচালনার পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে। সংশোধিত আইনের ১২(২) ধারা অনুযায়ী, বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন একজন ‘পরিচালক’। সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত এই কর্মকর্তা বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বোর্ডের কাজ পরিচালনার জন্য সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে।