বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা শিল্পী আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী ও গিটারিস্ট দস্তগীর হক মারা গেছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র রেখে গেছেন।
দস্তগীর হকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মাসাব হক।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদ্রোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তার বাবা। নিয়মিত ডায়ালাইসিস চলছিল তার। গত ২১ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে ৫ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে একপর্যায়ে ইন্টারনাল ব্লিডিং হয় তার। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়, সেখানেই গতকাল সকালে মৃত্যু হয় তার।
গতকাল বাদ আসর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় দস্তগীর হককে।
১৯৭২ সালে গঠিত আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস ব্যান্ডটি বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যান্ডটির সংগীত পরিবেশনা সেই সময়ের তরুণসমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দস্তগীর হক ছিলেন ব্যান্ডটির লিড ভোকাল ও গিটারিস্ট।
দস্তগীর হক দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান। তিনি কিংবদন্তি গিটারিস্ট নয়ন মুন্সীর বড় ভাই এবং পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় ও প্রখ্যাত শিল্পী আলমগীর হকের ছোট ভাই। তার বোন জর্জিনা হক বাংলাদেশের প্রথম নারী ড্রামার। ১৯৭২ সালে তিনি স্পন্দন ব্যান্ডের সঙ্গে ড্রামস বাজান। এই পরিবারটি কয়েক দশক ধরে উপমহাদেশের সংগীত ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
দস্তগীর হকের মৃত্যুতে দেশের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী শিল্পী, সংগীতপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। একজন নিরহংকারী, মেধাবী ও সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা শিল্পী হিসেবে দস্তগীরকে স্মরণ করছেন তারা।

























