Dhaka ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের আগে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ Time View


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভে এই উল্লম্ফন এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ জোরালো রয়েছে। মাসের প্রথম আট দিনেই দেশে এসেছে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা।

প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এতে ডলারের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার ১৯টি ব্যাংক থেকে মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এতে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারিত ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকে ডলার বাজারে অস্থিরতা শুরু হলে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। অথচ একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

বর্তমান সরকার অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়—দুটিই বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ এখন চাহিদার চেয়ে বেশি। ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে ভারসাম্য রক্ষা করছে। এর ফলে রিজার্ভও বাড়ছে।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

ভোটের আগে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

Update Time : ০৪:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভে এই উল্লম্ফন এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ জোরালো রয়েছে। মাসের প্রথম আট দিনেই দেশে এসেছে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা।

প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এতে ডলারের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার ১৯টি ব্যাংক থেকে মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এতে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারিত ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকে ডলার বাজারে অস্থিরতা শুরু হলে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। অথচ একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

বর্তমান সরকার অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়—দুটিই বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ এখন চাহিদার চেয়ে বেশি। ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে ভারসাম্য রক্ষা করছে। এর ফলে রিজার্ভও বাড়ছে।