Dhaka ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলকে বাসযোগ্য করতে পারে পৃথিবীর দুই অণুজীব

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩ Time View


দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করার উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। সেই গবেষণায় এবার অভাবনীয় এক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তারা। পৃথিবীতে বিদ্যমান দুটি বিশেষ অণুজীব ব্যবহার করে মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা সম্ভব বলে দাবি করছেন গবেষকরা। 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই অণুজীবগুলো মঙ্গলের আলগা মাটিকে কংক্রিটের মতো শক্ত উপাদানে রূপান্তর করতে পারে, যা দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা যাবে। এছাড়া এই ক্ষুদ্র প্রাণগুলো জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই আবিষ্কারটি লাল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মূলত দুটি অণুজীব প্রধান ভূমিকা পালন করবে। প্রথমটি হলো ‘স্পোরোসারসিনা পাস্তুরি’ (Sporosarcina pasteurii)। এটি ইউরিওলাইসিস নামক এক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে মঙ্গলের ধূলিকণাকে পাথরের মতো শক্ত করে ফেলে। 

দ্বিতীয় অণুজীবটি হলো ‘ক্রোকোকিডিওপসিস’ (Chroococcidiopsis) নামক এক ধরনের সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াটি মঙ্গলের মতো চরম প্রতিকূল ও বিকিরণপূর্ণ পরিবেশে শুধু বেঁচে থাকতেই সক্ষম নয়, বরং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করতে পারে। এই দুই অণুজীবের সমন্বয় মঙ্গলের রুক্ষ পরিবেশকে মানুষের জন্য সহনশীল করে তুলবে।

গবেষকদের মতে, ‘বায়োসিমেন্টেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে মঙ্গলের স্থানীয় মাটি ব্যবহার করে মজবুত স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে। মহাকাশ গবেষণায় এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি সমাধান। কারণ পৃথিবী থেকে মাত্র এক কেজি ইট বা সিমেন্ট মঙ্গলে পাঠাতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়। 

এই অণুজীবগুলো ব্যবহার করে যদি স্থানীয় মাটিকে নির্মাণসামগ্রীতে পরিণত করা যায়, তবে পৃথিবী থেকে ভারী উপকরণ পাঠানোর বিশাল খরচ শূন্যে নেমে আসবে। মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডল এবং প্রচণ্ড মহাজাগতিক বিকিরণ (কসমিক রেডিয়েশন) থেকে বাঁচতে এমন শক্তিশালী ও পুরু দেয়ালের আবাসন অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া অত্যন্ত পাতলা এবং তাপমাত্রা মানুষের জন্য সহনীয় নয়। সেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো কোনো বাতাস নেই এবং মহাজাগতিক বিকিরণের ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপদ বসবাসের জন্য সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, অণুজীবের সহায়তায় তৈরি এই বায়োসিমেন্টেশন পদ্ধতি স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে মজবুত ও নিরাপদ স্থাপনা তৈরির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পথ। এর ফলে মঙ্গলে কেবল ঘরবাড়ি নির্মাণই নয়, দীর্ঘমেয়াদী মানবজীবন টিকিয়ে রাখাও সম্ভব হবে।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

মঙ্গলকে বাসযোগ্য করতে পারে পৃথিবীর দুই অণুজীব

Update Time : ০৬:৪৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করার উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। সেই গবেষণায় এবার অভাবনীয় এক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তারা। পৃথিবীতে বিদ্যমান দুটি বিশেষ অণুজীব ব্যবহার করে মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা সম্ভব বলে দাবি করছেন গবেষকরা। 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই অণুজীবগুলো মঙ্গলের আলগা মাটিকে কংক্রিটের মতো শক্ত উপাদানে রূপান্তর করতে পারে, যা দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা যাবে। এছাড়া এই ক্ষুদ্র প্রাণগুলো জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই আবিষ্কারটি লাল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মূলত দুটি অণুজীব প্রধান ভূমিকা পালন করবে। প্রথমটি হলো ‘স্পোরোসারসিনা পাস্তুরি’ (Sporosarcina pasteurii)। এটি ইউরিওলাইসিস নামক এক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে মঙ্গলের ধূলিকণাকে পাথরের মতো শক্ত করে ফেলে। 

দ্বিতীয় অণুজীবটি হলো ‘ক্রোকোকিডিওপসিস’ (Chroococcidiopsis) নামক এক ধরনের সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াটি মঙ্গলের মতো চরম প্রতিকূল ও বিকিরণপূর্ণ পরিবেশে শুধু বেঁচে থাকতেই সক্ষম নয়, বরং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করতে পারে। এই দুই অণুজীবের সমন্বয় মঙ্গলের রুক্ষ পরিবেশকে মানুষের জন্য সহনশীল করে তুলবে।

গবেষকদের মতে, ‘বায়োসিমেন্টেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে মঙ্গলের স্থানীয় মাটি ব্যবহার করে মজবুত স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে। মহাকাশ গবেষণায় এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি সমাধান। কারণ পৃথিবী থেকে মাত্র এক কেজি ইট বা সিমেন্ট মঙ্গলে পাঠাতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়। 

এই অণুজীবগুলো ব্যবহার করে যদি স্থানীয় মাটিকে নির্মাণসামগ্রীতে পরিণত করা যায়, তবে পৃথিবী থেকে ভারী উপকরণ পাঠানোর বিশাল খরচ শূন্যে নেমে আসবে। মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডল এবং প্রচণ্ড মহাজাগতিক বিকিরণ (কসমিক রেডিয়েশন) থেকে বাঁচতে এমন শক্তিশালী ও পুরু দেয়ালের আবাসন অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া অত্যন্ত পাতলা এবং তাপমাত্রা মানুষের জন্য সহনীয় নয়। সেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো কোনো বাতাস নেই এবং মহাজাগতিক বিকিরণের ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপদ বসবাসের জন্য সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, অণুজীবের সহায়তায় তৈরি এই বায়োসিমেন্টেশন পদ্ধতি স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে মজবুত ও নিরাপদ স্থাপনা তৈরির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পথ। এর ফলে মঙ্গলে কেবল ঘরবাড়ি নির্মাণই নয়, দীর্ঘমেয়াদী মানবজীবন টিকিয়ে রাখাও সম্ভব হবে।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি