রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়টি গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০০৮ সাল থেকে দলটির নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই বাড়িটি রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সময় এখানে কার্যত অবরুদ্ধ থাকা এবং বাড়িটির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো আলোচিত ঘটনাগুলো এই আঙিনাতেই ঘটেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি বিএনপির নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে মনে করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর মালিক বর্তমান মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ সালের চরম রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় তিনি বাড়িটি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রদান করেছিলেন। প্রতিকূল সময়ে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য তিনি এটি ছেড়ে দেন এবং পরবর্তীতেও তা অব্যাহত রাখেন।
কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের এবারের নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ভোট পান। আসনের সব কেন্দ্রেই তিনি জয়ী হন।
হলফনামা অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকা, যা তাকে নতুন মন্ত্রিসভার শীর্ষ ধনীদের একজন হিসেবে তুলে ধরে।
১৯৬৫ সালে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া তাহের। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবারে একই আসন থেকে বড় ব্যবধানে জয় পান।
জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জাকারিয়া তাহের বর্তমানে ব্যাংকটির পরিচালক। রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও বরুড়া এলাকায় তাহের পরিবার পরিচিত।

























