Dhaka ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মসজিদে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সতর্কতা প্রচার, হাজারো মানুষের স্থানান্তর

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬ Time View


ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় পাকিস্তানের একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মসজিদ থেকে সতর্কবার্তা প্রচারের পরপরই তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যান। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিরাহ উপত্যকার বাসিন্দারা জানান, সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ঘোষণার পরই তারা নিকটবর্তী শহরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিরাহ উপত্যকার বাসিন্দারা জানান, সম্ভাব্য লড়াই এড়াতে ঘোষণার পরপর এলাকা ছেড়ে কাছের শহরগুলোতে চলে এসেছেন। ‍যদিও ভারী তুষারপাত এবং শীতের তীব্র তাপমাত্রা বিদ্যমান রয়েছে।

মসজিদে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, ‘সকলকে চলে যেতে হবে, তাই সবাই চলে যাচ্ছিল। আমরাও চলে গেলাম।’ বলেন গুল আফ্রিদি, একজন দোকানদার যিনি তার পরিবারের সাথে তিরাহ উপত্যকা থেকে ৭১ কিলোমিটার (৪৪ মাইল) পূর্বে অবস্থিত বারা শহরে পালিয়ে এসেছিলেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, হাজার হাজার পরিবার পালিয়ে গেছে এবং নিকটবর্তী শহরগুলোতে সহায়তার জন্য তাদের নিবন্ধন করা হচ্ছে।

রয়টার্স জানায়, তিরাহ উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা অঞ্চল এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের একটি শক্ত ঘাঁটি, যারা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে আসছে।

এদিকে, পাকিস্তান সরকার কোনো স্থানান্তর বা কোনো পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে, গত মঙ্গলবার, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ তিরাহতে কোনো অভিযানের পরিকল্পনা হচ্ছে- এমন কথা অস্বীকার করেছেন। বাসিন্দাদের অন্য কোথাও সরে যাওয়াকে শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে পরিচালিত একটি নিয়মিত মৌসুমী স্থানান্তর বলে অভিহিত করেছেন।

তবে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি পাকিস্তানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, তিরাতে বিদ্রোহীদের উপস্থিতি নিয়ে উপজাতীয় নেতা, জেলা কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর এই স্থানান্তর করা হয়েছে। 

সূত্রটি আরও জানায়, ‘লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক গোয়েন্দা অভিযান’ অব্যাহত থাকায় ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে বেসামরিক নাগরিকদের সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে। 

সূত্র: রয়টার্স 



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

মসজিদে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সতর্কতা প্রচার, হাজারো মানুষের স্থানান্তর

Update Time : ০৯:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬


ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় পাকিস্তানের একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মসজিদ থেকে সতর্কবার্তা প্রচারের পরপরই তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যান। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিরাহ উপত্যকার বাসিন্দারা জানান, সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ঘোষণার পরই তারা নিকটবর্তী শহরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিরাহ উপত্যকার বাসিন্দারা জানান, সম্ভাব্য লড়াই এড়াতে ঘোষণার পরপর এলাকা ছেড়ে কাছের শহরগুলোতে চলে এসেছেন। ‍যদিও ভারী তুষারপাত এবং শীতের তীব্র তাপমাত্রা বিদ্যমান রয়েছে।

মসজিদে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, ‘সকলকে চলে যেতে হবে, তাই সবাই চলে যাচ্ছিল। আমরাও চলে গেলাম।’ বলেন গুল আফ্রিদি, একজন দোকানদার যিনি তার পরিবারের সাথে তিরাহ উপত্যকা থেকে ৭১ কিলোমিটার (৪৪ মাইল) পূর্বে অবস্থিত বারা শহরে পালিয়ে এসেছিলেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, হাজার হাজার পরিবার পালিয়ে গেছে এবং নিকটবর্তী শহরগুলোতে সহায়তার জন্য তাদের নিবন্ধন করা হচ্ছে।

রয়টার্স জানায়, তিরাহ উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা অঞ্চল এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের একটি শক্ত ঘাঁটি, যারা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে আসছে।

এদিকে, পাকিস্তান সরকার কোনো স্থানান্তর বা কোনো পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে, গত মঙ্গলবার, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ তিরাহতে কোনো অভিযানের পরিকল্পনা হচ্ছে- এমন কথা অস্বীকার করেছেন। বাসিন্দাদের অন্য কোথাও সরে যাওয়াকে শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে পরিচালিত একটি নিয়মিত মৌসুমী স্থানান্তর বলে অভিহিত করেছেন।

তবে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি পাকিস্তানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, তিরাতে বিদ্রোহীদের উপস্থিতি নিয়ে উপজাতীয় নেতা, জেলা কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর এই স্থানান্তর করা হয়েছে। 

সূত্রটি আরও জানায়, ‘লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক গোয়েন্দা অভিযান’ অব্যাহত থাকায় ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে বেসামরিক নাগরিকদের সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে। 

সূত্র: রয়টার্স