Dhaka ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবজীবনে দোয়া

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯ Time View


দোয়া অর্থ ডাকাডাকি, আহ্বান, প্রার্থনা, চাওয়া ইত্যাদি। দোয়া এক অদ্ভুত বিস্ময়কর বিষয়। দোয়া প্রমাণ করে আমি নিডি, আমার চাহিদা আছে, অভাব আছে। আর সেটা আমি নিজ থেকে পূরণ করতে পারি না। অন্য কারো সাহায্য প্রয়োজন।

বিশ্বজগতে মানুষ ছাড়া আর কোনো সৃষ্টির নিজের জন্য এভাবে চাওয়ার প্রয়োজন হয় না। দোয়া নিজেই এক ইবাদত। দোয়া আমাকে সার্বক্ষণিক মালিকের শরণাপন্ন করে রাখে। দোয়া অস্বীকার-অবহেলা হলো স্রষ্টা অস্বীকার-অবহেলার নামান্তর।

দোয়া এমন একটি আমল, যা সবচেয়ে সহজ এবং যার মাধ্যমে আমি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে খুব সহজেই রবের সন্তুষ্টি হাসিল করতে পারি। দোয়া হচ্ছে মুমিনের হাতিয়ার। দোয়ার মাধ্যমে অনেক কিছুই সম্ভব। এমনকি দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনও হতে পারে। 

তাই মানবজীবনে দোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। দোয়া হচ্ছে সব ইবাদতের মূল। দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে রসুল বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে দোয়া। তিনি আরো বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানজনক আর
কিছুই নেই’। (তিরমিজি-৩২৯৫)

মানুষের কাছে দুনিয়াবি কিছু চাইলে মানুষ বিরক্ত ও রাগ হয়। আর আল্লাহর কাছে কিছু না চাইলে আল্লাহ বান্দার ওপর রাগ হন। রসুল বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না অর্থাৎ দোয়া করে না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন (তিরমিজি-৩৫৪৮)। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, রসুল তাকে তিরস্কার করে বলেছেন, সর্বাধিক অক্ষম মানুষ হলো সে ব্যক্তি, যে দোয়া করতে অপরাগ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায়-আল্লাহ তার ওপর খুশি হয়ে তার ডাকে সাড়া দেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ-তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (সুরা আল-মুমিন: ৬০)।’ আল্লাহ-তায়ালা বান্দাদের ওপর খুবই অনুগ্রহশীল ও দয়াময়। তাই আল্লাহ-তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।

আল্লাহ-তায়ালা বান্দাদের ওপর খুবই অনুগ্রহশীল ও দয়াময়। তাই আল্লাহ-তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ-তায়ালা বলেন, ‘হে রসুল, যখন আমার বান্দা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দেবেন আমি (বান্দার) কাছেই আছি। দোয়াকারী যখনই আমার কাছে দোয়া করে, তখনই আমি তার দোয়া কবুল করি ’(সুরা বাকারা: ১৮৬)।

রসুল বলেছেন,‘তোমাদের রব অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়াময়। দোয়ার জন্য বান্দাহ যখন তার কাছে হাত ওঠায়, তখন তাকে বঞ্চিত করে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে আল্লাহ লজ্জাবোধ করেন। তাই অবশ্যই আমাদেরকে দোয়ার ব্যাপারে খুবই যত্নশীল হতে হবে এবং দোয়া যেন অবশ্যই কবুলযোগ্য হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে হাদিস থেকে খুবই চমৎকার এক দোয়া-আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ইলমিন লা ইয়ানফাউ, ওয়া মিন কালবিন লা ইয়াখশাউ, ওয়া মিন নাফসিন লা তাশবাউ, ওয়া মিন দাওয়াতিন লা ইয়ুসতাজাবু লাহা। অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অপকারী জ্ঞান, ভয়হীন অন্তর, অপরিতৃপ্ত সত্তা এবং জবাব দেওয়া হয় না/কবুল করা হয় না-এমন দোয়া থেকে আশ্রয় চাই। সুনানে আবু দাউদ-১৫৪৮, নাসায়ী-৫৪৮২, ইবনু মাজাহ-৮৪৬৯।

আদর্শ দোয়ার বিষয়বস্তু: ১. প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করা। ২. দ্বিতীয়ত রসুল (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ। ৩. তৃতীয়ত আল্লাহর কাছে সব ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৪. চতুর্থত সব কাজে সাফল্য ও কল্যাণের জন্য একান্তভাবে আল্লাহ-তায়ালার সাহায্য-সহযোগিতার আবদার করা। ছোট মনে করে কোনো বিষয় আল্লাহর কাছে বলতে সংকোচ না করা এবং সব বিষয় আল্লাহর দায়িত্বে অর্পণ করা। ৫. পঞ্চমত রসুল (স.)-এর ওপর দরুদ এবং আল্লাহ-তায়ালার প্রশংসা করে দোয়া শেষ করা।

লেখক: সাবেক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

মানবজীবনে দোয়া

Update Time : ০৯:০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬


দোয়া অর্থ ডাকাডাকি, আহ্বান, প্রার্থনা, চাওয়া ইত্যাদি। দোয়া এক অদ্ভুত বিস্ময়কর বিষয়। দোয়া প্রমাণ করে আমি নিডি, আমার চাহিদা আছে, অভাব আছে। আর সেটা আমি নিজ থেকে পূরণ করতে পারি না। অন্য কারো সাহায্য প্রয়োজন।

বিশ্বজগতে মানুষ ছাড়া আর কোনো সৃষ্টির নিজের জন্য এভাবে চাওয়ার প্রয়োজন হয় না। দোয়া নিজেই এক ইবাদত। দোয়া আমাকে সার্বক্ষণিক মালিকের শরণাপন্ন করে রাখে। দোয়া অস্বীকার-অবহেলা হলো স্রষ্টা অস্বীকার-অবহেলার নামান্তর।

দোয়া এমন একটি আমল, যা সবচেয়ে সহজ এবং যার মাধ্যমে আমি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে খুব সহজেই রবের সন্তুষ্টি হাসিল করতে পারি। দোয়া হচ্ছে মুমিনের হাতিয়ার। দোয়ার মাধ্যমে অনেক কিছুই সম্ভব। এমনকি দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনও হতে পারে। 

তাই মানবজীবনে দোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। দোয়া হচ্ছে সব ইবাদতের মূল। দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে রসুল বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে দোয়া। তিনি আরো বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানজনক আর
কিছুই নেই’। (তিরমিজি-৩২৯৫)

মানুষের কাছে দুনিয়াবি কিছু চাইলে মানুষ বিরক্ত ও রাগ হয়। আর আল্লাহর কাছে কিছু না চাইলে আল্লাহ বান্দার ওপর রাগ হন। রসুল বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না অর্থাৎ দোয়া করে না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন (তিরমিজি-৩৫৪৮)। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, রসুল তাকে তিরস্কার করে বলেছেন, সর্বাধিক অক্ষম মানুষ হলো সে ব্যক্তি, যে দোয়া করতে অপরাগ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায়-আল্লাহ তার ওপর খুশি হয়ে তার ডাকে সাড়া দেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ-তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (সুরা আল-মুমিন: ৬০)।’ আল্লাহ-তায়ালা বান্দাদের ওপর খুবই অনুগ্রহশীল ও দয়াময়। তাই আল্লাহ-তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।

আল্লাহ-তায়ালা বান্দাদের ওপর খুবই অনুগ্রহশীল ও দয়াময়। তাই আল্লাহ-তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ-তায়ালা বলেন, ‘হে রসুল, যখন আমার বান্দা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দেবেন আমি (বান্দার) কাছেই আছি। দোয়াকারী যখনই আমার কাছে দোয়া করে, তখনই আমি তার দোয়া কবুল করি ’(সুরা বাকারা: ১৮৬)।

রসুল বলেছেন,‘তোমাদের রব অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়াময়। দোয়ার জন্য বান্দাহ যখন তার কাছে হাত ওঠায়, তখন তাকে বঞ্চিত করে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে আল্লাহ লজ্জাবোধ করেন। তাই অবশ্যই আমাদেরকে দোয়ার ব্যাপারে খুবই যত্নশীল হতে হবে এবং দোয়া যেন অবশ্যই কবুলযোগ্য হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে হাদিস থেকে খুবই চমৎকার এক দোয়া-আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ইলমিন লা ইয়ানফাউ, ওয়া মিন কালবিন লা ইয়াখশাউ, ওয়া মিন নাফসিন লা তাশবাউ, ওয়া মিন দাওয়াতিন লা ইয়ুসতাজাবু লাহা। অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অপকারী জ্ঞান, ভয়হীন অন্তর, অপরিতৃপ্ত সত্তা এবং জবাব দেওয়া হয় না/কবুল করা হয় না-এমন দোয়া থেকে আশ্রয় চাই। সুনানে আবু দাউদ-১৫৪৮, নাসায়ী-৫৪৮২, ইবনু মাজাহ-৮৪৬৯।

আদর্শ দোয়ার বিষয়বস্তু: ১. প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করা। ২. দ্বিতীয়ত রসুল (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ। ৩. তৃতীয়ত আল্লাহর কাছে সব ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৪. চতুর্থত সব কাজে সাফল্য ও কল্যাণের জন্য একান্তভাবে আল্লাহ-তায়ালার সাহায্য-সহযোগিতার আবদার করা। ছোট মনে করে কোনো বিষয় আল্লাহর কাছে বলতে সংকোচ না করা এবং সব বিষয় আল্লাহর দায়িত্বে অর্পণ করা। ৫. পঞ্চমত রসুল (স.)-এর ওপর দরুদ এবং আল্লাহ-তায়ালার প্রশংসা করে দোয়া শেষ করা।

লেখক: সাবেক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়