Dhaka ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মামলার খবর নিতে গিয়ে আইনজীবীর ‘ধর্ষণের’ শিকার ব্যবসায়ী নারী

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০ Time View


মামলার খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে নিজের আইনজীবীর কাছে ‘ধর্ষণের’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী নারী।

রাজধানীর বিজয়নগরের এই ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে ঢাকার একটি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজয় নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় শামসুল ইসলামের চেম্বারে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ করেন ওই নারী কাপড় ব্যবসায়ী। ঘটনার পরপরই তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই রয়েল হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কাজী জাকির হোসেন বলেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল বলেন, ভুক্তভোগী ওই নারীর আইনজীবী শামসুল ইসলাম। মামলার খোঁজ খবর নিতে গিয়ে ‘ধর্ষণের’ শিকার হন বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। মামলার তদন্ত চলছে।

ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, ‘উনি (শামসুল ইসলাম) ও আমি ওয়ারীতে একই এলাকায় থাকি। এলাকার সম্পর্কে তাকে কাকা ডাকি। তার মাধ্যমে আমার ব্যবসা সংক্রান্ত একটা মামলার জামিন করাই। জামিনের পর সে মামলার তারিখ জানাতে বিভিন্ন টালবাহানা করে। পরে ওইদিন আমাকে তার চেম্বারে ফোনে ডেকে নেন।’

এ বিষয়ে শামসুল ইসলামের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাবি, “তাকে (শামসুল) ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার ঘটনায় রাত সাড়ে ১২টায় মামলা। মামলার দুই ঘণ্টা পরই গ্রেপ্তার। পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এটা রহস্যজনক মামলা।”

ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে এক মামলায় ওই নারীকে কারাগারে যেতে হয়। শামসুল ইসলামের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জামিন পান তিনি। চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ওই নারী আবার ফোন দিলে আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আরেকবার ফোন দিলে রিসিভ করেন না। পরে ৮টা ৮ মিনিটের দিকে ওই আইনজীবী নিজে ফোন করে তাকে পল্টনের বিজয় নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলার চেম্বারে দেখা করতে বলেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘রাত ৯টার দিকে ওই নারী তার চেম্বারে গিয়ে দেখেন শামসুল ইসলাম একা বসে ফোনে কথা বলছে। ওই নারী তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে ওই আইনজীবী তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কথা শেষ করে জানায়, রোববার ওই নারীর হাজিরার তারিখ আছে। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ওই নারী বের হয়ে আসতে গেলে শামসুল ইসলাম তাকে ধর্ষণ করেন।’

বিষয়টা গোপন রাখতে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

মামলার খবর নিতে গিয়ে আইনজীবীর ‘ধর্ষণের’ শিকার ব্যবসায়ী নারী

Update Time : ০৯:৩১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬


মামলার খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে নিজের আইনজীবীর কাছে ‘ধর্ষণের’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী নারী।

রাজধানীর বিজয়নগরের এই ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে ঢাকার একটি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজয় নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় শামসুল ইসলামের চেম্বারে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ করেন ওই নারী কাপড় ব্যবসায়ী। ঘটনার পরপরই তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই রয়েল হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কাজী জাকির হোসেন বলেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল বলেন, ভুক্তভোগী ওই নারীর আইনজীবী শামসুল ইসলাম। মামলার খোঁজ খবর নিতে গিয়ে ‘ধর্ষণের’ শিকার হন বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। মামলার তদন্ত চলছে।

ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, ‘উনি (শামসুল ইসলাম) ও আমি ওয়ারীতে একই এলাকায় থাকি। এলাকার সম্পর্কে তাকে কাকা ডাকি। তার মাধ্যমে আমার ব্যবসা সংক্রান্ত একটা মামলার জামিন করাই। জামিনের পর সে মামলার তারিখ জানাতে বিভিন্ন টালবাহানা করে। পরে ওইদিন আমাকে তার চেম্বারে ফোনে ডেকে নেন।’

এ বিষয়ে শামসুল ইসলামের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাবি, “তাকে (শামসুল) ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার ঘটনায় রাত সাড়ে ১২টায় মামলা। মামলার দুই ঘণ্টা পরই গ্রেপ্তার। পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এটা রহস্যজনক মামলা।”

ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে এক মামলায় ওই নারীকে কারাগারে যেতে হয়। শামসুল ইসলামের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জামিন পান তিনি। চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ওই নারী আবার ফোন দিলে আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আরেকবার ফোন দিলে রিসিভ করেন না। পরে ৮টা ৮ মিনিটের দিকে ওই আইনজীবী নিজে ফোন করে তাকে পল্টনের বিজয় নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলার চেম্বারে দেখা করতে বলেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘রাত ৯টার দিকে ওই নারী তার চেম্বারে গিয়ে দেখেন শামসুল ইসলাম একা বসে ফোনে কথা বলছে। ওই নারী তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে ওই আইনজীবী তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কথা শেষ করে জানায়, রোববার ওই নারীর হাজিরার তারিখ আছে। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ওই নারী বের হয়ে আসতে গেলে শামসুল ইসলাম তাকে ধর্ষণ করেন।’

বিষয়টা গোপন রাখতে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।