নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা প্রসঙ্গ যে খবর বের হয়েছে, সেটাকে ভুল তথ্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই যে এখানে ভুল তথ্য চলে আসে। আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং যথারীতি ওটা বহাল আছে।’
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অধিবেশনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এটা খুব অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ থাকাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন; এটা খুবই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটত। সেটা অবশ্যই করি নাই।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার বিষয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নিজে না করলেও উপদেষ্টা পরিষদের কেউ কেউ কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তবে কারা করেছেন, তাদের নাম বলেননি তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘মন্ত্রীরা কেউ কেউ করছেন, কারণ এরপরে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রশ্ন আছে। পাসপোর্ট তো এখন থেকে নিয়ে নিলেন, যাতে করে তাদের ভিসা নিতে সহজ হয় আরকি। সময়মতো তারা নিতে পারেন। তারা নিয়েছেন কেউ কেউ। এটা ঠিক। তবে এটা ঠিক নয় যে, আমি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছি। আমার পাসপোর্ট যথারীতি বহাল আছে।’
কূটনৈতিক পাসপোর্টেতো ভিসা প্রাপ্তি সহজ হওয়ার কথা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা হলো যে, একটু সময় গেইন করা, যাতে তাদের এর মধ্যে পাসপোর্টটা হয়ে গেল। মেয়াদ শেষ হলে তারা ঠিকঠাক থাকবে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান, বি-টু ভিসা, সেটা কিন্তু বাতিল হয় না পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গেলেও। কিন্তু তাদের তো নতুন পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। যদি যেতে হয় আরকি।’
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধান ৩-৪টি দলের সবাই কিন্তু হ্যাঁ-ভোটের পক্ষে। আমার মনে হয় না এটা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা তৈরি হবে। কিছু লোক ভোট দিতে না-ও যেতে পারে, এটা সবসময়ই হয়। প্রতি নির্বাচনেই কিছু মানুষ ভোট দেয় না। এবার কী হবে, তা আমি বলতে পারব না।’
নির্বাচনকে সামনে রেখে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন এলেই এই ধরনের কার্যক্রম একরকম সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সমাজের একটি অংশ চায় বিদেশিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করুক।




















