ইসলামে সম্মান ও মর্যাদা কেবল পার্থিব বিষয় নয়, বরং তা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আনুগত্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সম্মান ও মর্যাদার প্রকৃত উৎস হলেন আল্লাহ-তায়ালা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এমন অনেক আমলের কথা বলা হয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত করে তোলে।
আল্লাহ-তায়ালা বলেন, ‘যে কেউ সম্মান চায়, সে জেনে রাখুক যে, সব সম্মান আল্লাহরই জন্য (সুরা ফাতির, ৩৫:১০)।’
সম্মানিত জীবনের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো খাঁটি ইমান এবং সেই অনুযায়ী নেক আমল করা।
আল্লাহ-তায়ালা ঘোষণা করেন: ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন (সুরা মুজাদালা, ৫৮: ১১)।’ আবার অহংকার বা দাম্ভিকতা নয়, বরং বিনয়ই হচ্ছে সম্মান লাভের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে কেউ বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন (সহীহ মুসলিম)।’ অন্যকে ক্ষমা করা, উদারতা দেখানো এবং নম্র আচরণ করা আল্লাহর কাছে প্রিয়, যা মানুষের মধ্যেও সম্মান বৃদ্ধি করে। আল্লাহ-তায়ালা ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন।
রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা মর্যাদার অন্যতম আমল। আল্লাহ-তায়ালা এরশাদ করেন: ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসনীয় অবস্থানে পৌঁছে দেবেন (সুরা বনি ইসরাইল, ১৭: ৭৯)।’ এছাড়া, বেশি বেশি কুরআন পাঠ করা এবং তার ওপর আমল করা বান্দার মর্যাদা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করলেও সম্মান বাড়ে। ইস্তেগফার বান্দার গুনাহ মাফ করিয়ে দেয় এবং তার জীবনের সংকট নিরসন করে। হাদিসে এসেছে, যারা বেশি বেশি ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তাদের অভাব-অনটন দূর করেন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে রিজিক দান করেন।
সম্পদ কমে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই দান করতে ইতস্তত করেন। কিন্তু ইসলামে বলা হয়েছে, দানের কারণে সম্পদ কমে না, বরং আল্লাহ তার বিনিময় আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন এবং দাতার সম্মান বৃদ্ধি করেন। রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সদকা বা দানের কারণে কখনো সম্পদ কমে না (সহিহ মুসলিম)।’
হাদিসে সম্মান বৃদ্ধির আরো তিনটি বিশেষ আমলের কথা বলা হয়েছে, যেমন-মেহমান ও দরিদ্রদের খাবার খাওয়ানো, সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানো এবং রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন নামাজে মশগুল হওয়া (তাহাজ্জুদ) (আলমুজামুল আওসাত্ব)।
রসুল (স.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করলেও আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন, গুনাহ মাফ করেন এবং রহমত নাজিল করেন। রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে একবার আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন, ১০টি গুনাহ মাফ করেন এবং ১০ গুণ মর্যাদা বাড়িয়ে দেন (সুনানে নাসাই)।’
অতএব, সম্মান, ইজ্জত ও মর্যাদার একমাত্র মালিক আল্লাহ-তায়ালা। মানুষের কাছে সম্মান পাওয়ার আগে আল্লাহর কাছে
সম্মানিত হওয়া জরুরি।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, পাংশা, রাজবাড়ী


























