Dhaka ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারা দেশে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের শুভ সূচনা: বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ!

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৮ Time View

মাহমুদুল হাসান সিরাত, নারায়ণগঞ্জ | 

দেশের শিক্ষিত বেকার যুবদের আধুনিক কর্মসংস্থানের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত করতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

তিনি বলেন, “সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে এই কর্মসূচি শুরু হলো।”

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছেন।

কেন্দ্রীয় আয়োজনের সমান্তরালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং শাখায় আয়োজিত হয় বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। স্থানীয় পর্যায়ের এই আয়োজনে জেলার কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

নারায়ণগঞ্জ শাখায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসিনা পারভীন।

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পনগরী, কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে আমাদের তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। ৩ মাসের এই নিবিড় প্রশিক্ষণ তাদের বিশ্ববাজারের যোগ্য করে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ঢাকা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর মোঃ শাকিল।

তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রশিক্ষণার্থীদের কারিগরি সহায়তা ও মেন্টরিং ক্লাসের মাধ্যমে সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই ব্যাচে ভর্তির জন্য হাজারো আবেদন জমা পড়লেও  লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেরা ৭৫ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণরা আগামী ৩ মাস প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং,ডিজিটাল মার্কেটিং ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং,কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও বেসিক ইংলিশ,সফট স্কিল ও পেশাদারিত্ব উন্নয়ন

নারায়ণগঞ্জ শাখার প্রশিক্ষণার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দৈনিক যাতায়াত ভাতা, উন্নতমানের খাবার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পাচ্ছেন। কোর্স শেষে সফলদের সরকারি সনদপত্র প্রদান করা হবে এবং তাদের উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় সার্বক্ষণিক মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শাখার একজন নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “এইচএসসি পাসের পর অনেক জায়গায় চাকরির চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ৩ মাসে ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ পেয়ে আমি নিজেকে আন্তর্জাতিক মার্কেটে প্রমাণের জন্য তৈরি করতে চাই।”

নারায়ণগঞ্জের এই ৭৫ জন তরুণের হাত ধরেই জেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো, যা প্রকারান্তরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা যায়

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

সারা দেশে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের শুভ সূচনা: বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ!

Update Time : ১২:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মাহমুদুল হাসান সিরাত, নারায়ণগঞ্জ | 

দেশের শিক্ষিত বেকার যুবদের আধুনিক কর্মসংস্থানের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত করতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

তিনি বলেন, “সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে এই কর্মসূচি শুরু হলো।”

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছেন।

কেন্দ্রীয় আয়োজনের সমান্তরালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং শাখায় আয়োজিত হয় বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। স্থানীয় পর্যায়ের এই আয়োজনে জেলার কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

নারায়ণগঞ্জ শাখায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসিনা পারভীন।

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পনগরী, কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে আমাদের তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। ৩ মাসের এই নিবিড় প্রশিক্ষণ তাদের বিশ্ববাজারের যোগ্য করে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ঢাকা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর মোঃ শাকিল।

তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রশিক্ষণার্থীদের কারিগরি সহায়তা ও মেন্টরিং ক্লাসের মাধ্যমে সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই ব্যাচে ভর্তির জন্য হাজারো আবেদন জমা পড়লেও  লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেরা ৭৫ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণরা আগামী ৩ মাস প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং,ডিজিটাল মার্কেটিং ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং,কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও বেসিক ইংলিশ,সফট স্কিল ও পেশাদারিত্ব উন্নয়ন

নারায়ণগঞ্জ শাখার প্রশিক্ষণার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দৈনিক যাতায়াত ভাতা, উন্নতমানের খাবার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পাচ্ছেন। কোর্স শেষে সফলদের সরকারি সনদপত্র প্রদান করা হবে এবং তাদের উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় সার্বক্ষণিক মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শাখার একজন নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “এইচএসসি পাসের পর অনেক জায়গায় চাকরির চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ৩ মাসে ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ পেয়ে আমি নিজেকে আন্তর্জাতিক মার্কেটে প্রমাণের জন্য তৈরি করতে চাই।”

নারায়ণগঞ্জের এই ৭৫ জন তরুণের হাত ধরেই জেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো, যা প্রকারান্তরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা যায়