সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এটি সংক্ষেপে কাউস্ট নামে পরিচিত। এটি গবেষণাধর্মী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রাজকীয় স্কলারশিপ ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চতর গবেষণার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় সুযোগ এটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য এই বৃত্তির আবেদন করতে পারবেন।
২০০৯ সালে সৌদি আরবসহ বিশ্ববাসীর জন্য বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার, অর্থনৈতিক উন্নতি ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় কাউস্ট। কাউস্টের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-সউদ বলেছিলেন, ‘কাউস্ট হবে সৌদি আরব ও বিশ্বমানবতার ভবিষ্যতের শান্তি, আশা ও পুনর্গঠনের দিশারী।’
কাউস্টের গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-সউদ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড হিসেবে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখান থেকে প্রতিবছর এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার মুনাফা গ্রহণ করে কাউস্ট। এই মুনাফা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ব্যয় মেটানো হয়। ২০২৫ সালে বিনিয়োগের দিক দিয়ে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কাউস্ট ষষ্ঠ। সমৃদ্ধ ও অত্যাধুনিক গবেষণাগার ও বিশ্বখ্যাত অধ্যাপকদের সান্নিধ্য পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘এমআইটি’ বলে থাকেন।
সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৬-২৭ সেশনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চতর গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি আকর্ষণীয় বৃত্তির সুযোগ। এই বিদ্যাপীঠে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য বৃত্তির আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
সুযোগ-সুবিধা
এই স্কলারশিপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত বা ‘ফুল-ফান্ডেড’ প্রোগ্রাম। ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে কোনো ধরনের আবেদন ফি লাগবে না। আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ২০-৩০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪ থেকে ৩৬ লাখ টাকা) জীবনযাত্রা উপবৃত্তি বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। যার পরিমাণ প্রার্থীর যোগ্যতা ও ডিগ্রির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত আবাসন বা হাউসিং সুবিধা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। শারীরিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করে এই বৃত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি নিজ দেশ থেকে সৌদি আরবে আসা-যাওয়ার খরচ বা স্থানান্তর সহায়তার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আবেদনের যোগ্যতা
কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটির বৃত্তির জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন। এই বৃত্তির আওতায় মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। ডক্টরাল বা পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য প্রার্থীর মাস্টার্স ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক ক্ষেত্রে চমৎকার ফলাফলের অধিকারী এবং মার্জিত আচরণের হতে হবে। এই স্কলারশিপ চলাকালে শিক্ষার্থী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎস থেকে বৃত্তি গ্রহণ করতে পারবেন না।
প্রয়োজনীয় তথ্য
আবেদনকারীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিশিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার উদ্দেশ্যসংবলিত ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ প্রস্তুত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থীর শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনের বিস্তারিত বিবরণসহ একটি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত এবং পাসপোর্টের বৈধ কপি জমা দিতে হবে। তিনজন শিক্ষক বা সুপারভাইজরের কাছ থেকে তিনটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে টোয়েফল পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭৯ স্কোর অথবা আইইএলটিএসে ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: আগামী ১১ এপ্রিল, ২০২৬।

























