জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নির্মাণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় একটি গার্ডার ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। এতে প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা, আর চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষ ও যানবাহনকে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী ঘোড়ামারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ব্রিজটিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতপোয়া ইউনিয়নের ঘোড়ামারা বাজার সংলগ্ন ঝিনাই শাখা নদীর ওপর ছয় মাস আগে ১৪০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি দুই পাশে প্রায় ৩৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ পায় জামালপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ’। এতে ব্যয় হয় ১১ কোটি ৩৫ লাখ ২২ হাজার ১৩৬ টাকা।
এই ব্রিজ দিয়ে উপজেলার আদ্রা, চর রৌহা এবং পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। ফলে ব্রিজের উভয়পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যানবাহন ও পথচারীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আলতাফ হোসেন, নাসিম আহম্মেদ, বৃদ্ধা সমিরন বেওয়া ও শিক্ষার্থী সাকিবসহ অনেকে অভিযোগ করে জানান, কাজ চলাকালে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তারা বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারের লোকজন কাজ চালিয়ে যায়। এর ফল এখন এলাকাবাসী পাচ্ছে। ছয় মাস না যেতেই সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। ইতোমধ্যে গর্তে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুকনো মৌসুমেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা বা বন্যার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। দ্রুত ব্রিজের সংযোগ সড়ক মেরামত করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পেয়েছি। ব্রিজের নির্মাণকাজ ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত চলেছে। সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার খবর পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে এবং চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে তারা পলাতক থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।


























