ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রবীণ তিন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকার পদে তিনজন এবং সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদে দুইজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে।
এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে, ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে তারেক রহমান বেছে নেবেন তা নিশ্চিত নয়। তবে এই তিনজনই দলের ভেতরে ও বাইরে সমান জনপ্রিয়। মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায়ও তারা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি। ক্লিন ইমেজের অধিকারী আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং আন্দালিব রহমান পার্থর নাম না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদের সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর নাম শোনা যাচ্ছে।
বিএনপি সূত্র বলছে, দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনায় স্পিকার পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। মঈন খানের বাবা ড. আবদুল মোমেন খান জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।
অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকার কারণেও স্পিকার পদের আলোচনা তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, স্পিকার পদে জন্য কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় এসেছে। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থায় কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।
এদিকে, জয়নুল আবদিন ফারুক ৬ বারের সংসদ-সদস্য। নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন তিনি। ফলে এবার সরকারদলীয় সম্ভাব্য চিফ হুইপ হিসাবে তার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বরকত উল্লাহ বুলু ৫ বারের সংসদ সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। এবারও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনা ছিলেন বুলু। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় এখন তার নামও চিফ হুইপ পদে আলোচনায় আছে।





















