কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কোনো দেশে রমজান শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে ভৌগোলিক অবস্থান আর ঋতুর কারণে এবারও সব দেশের মুসলমানদের রোজার সময় এক হবে না।
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজার সময় হবে তুলনামূলক বেশি। এ বছর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে। রাজধানী হেলসিংকি ও আশপাশের এলাকায় মুসলমানদের প্রায় ১৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট না খেয়ে থাকতে হবে।
এ ছাড়া আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডেও রোজার সময় প্রায় ১৭ ঘণ্টা হবে। স্কটল্যান্ড, কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও ইতালিতে রোজা রাখতে হতে পারে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ ঘণ্টা। যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্সে রোজার সময় গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে থাকবে।
এর ঠিক উল্টো চিত্র দক্ষিণ গোলার্ধে। সেখানে দিন ছোট হওয়ায় রোজার সময়ও হবে কম। এ বছর সবচেয়ে কম সময় রোজা পালন করবেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ ও চিলির পুয়ের্তো মন্টের বাসিন্দারা। এসব জায়গায় রোজার সময় হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে রোজা রাখতে হবে ১২ থেকে সাড়ে ১২ ঘণ্টা।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে রোজার সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় সাড়ে ১২ ঘণ্টার মতো রোজা রাখা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রোজার সময় গড়ে থাকবে ১৩ ঘণ্টা।
বাংলাদেশে এবারের রমজানে রোজার সময় হবে প্রায় ১৩ ঘণ্টা। প্রথম দিন সাহরি শেষ হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিটে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, নিরক্ষরেখা থেকে কোনো দেশ যত দূরে সেখানে দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য তত বেশি হয়। তাই উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি দেশগুলোতে রোজার সময়েও বড় পার্থক্য দেখা যায়।
তবে স্বস্তির খবর হলো—২০২৬ সালে রমজান শীতকালে পড়ায় উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে আগের কয়েক বছরের তুলনায় রোজার কষ্ট কিছুটা কম হবে। আর যেসব এলাকায় সূর্য খুব দেরিতে অস্ত যায় বা অস্তই যায় না, সেখানে মুসলমানরা শরিয়াহ অনুযায়ী মক্কা কিংবা কাছের কোনো দেশের সময় ধরে রোজা পালন করবেন।

























