Dhaka ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলা তোমাদের হবে না, এবার ওদের দিল্লি কেড়ে নেব: মমতা

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩ Time View


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মতে, রাজ্যটিতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ‘বাংলা দখল’ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে ‘বাংলা দখল’ করতে এলে ‘দিল্লি দখল’ করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক রাজনৈতিক সভায় ভাষণ দিয়ে মমতা জোর দিয়ে বলেন, বিজেপির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যতই করুন এসআইআর, বাংলা তোমাদের হবে না। এবার ওদের দিল্লি কেড়ে নেব!’

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় সংশোধনের পর প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যেসব রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন চলছিল, তার মধ্যে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এই সংখ্যক ভোটার বাদে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে সাত কোটি আট লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন। তবে এর বাইরে আরও প্রায় দেড় কোটি ভোটার রয়েছেন, যাদের নাম খসড়া তালিকায় থাকলেও তাদের নিয়ে সন্দেহ আছে বলে জানায় কমিশন।

এ ইস্যুতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বলেন, এসআইআর করে ভোটার বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি ও কমিশন বাংলাকে দখল করতে চাইছে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। তার ভাষায়, ‘কমিশন ভাবে কী? ভোটার বাদ দিয়ে আমাদের বাদ দেবে? মানুষই আপনাদের বাদ দিয়ে দেবে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লড়াই করে ওদের ক্লান্ত করে দিতে হবে। কারণ ওরা মাঠে নামে না, ওরা থাকে টিভির পর্দায়। আর আমরা থাকি মানুষের মধ্যে। ওরা থাকুক দেওয়ালে, তৃণমূল থাকুক খেয়ালে!’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মমতার আজকের বক্তব্য ছিল একের পর এক রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি। বিজেপিকে রুখতে কর্মীদের প্রাণপণ লড়াইয়ের ডাক দিয়ে মমতা বলেন, ‘প্রাণ দিয়ে, জীবন দিয়ে বিজেপিকে রুখতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, নেতারা পারবে না—কর্মীরা পারবে। এই লড়াই আমাদের বাঁচার লড়াই। এ লড়াই আমাদের জিততেই হবে।’



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বাংলা তোমাদের হবে না, এবার ওদের দিল্লি কেড়ে নেব: মমতা

Update Time : ০৭:০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মতে, রাজ্যটিতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ‘বাংলা দখল’ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে ‘বাংলা দখল’ করতে এলে ‘দিল্লি দখল’ করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক রাজনৈতিক সভায় ভাষণ দিয়ে মমতা জোর দিয়ে বলেন, বিজেপির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যতই করুন এসআইআর, বাংলা তোমাদের হবে না। এবার ওদের দিল্লি কেড়ে নেব!’

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় সংশোধনের পর প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যেসব রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন চলছিল, তার মধ্যে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এই সংখ্যক ভোটার বাদে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে সাত কোটি আট লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন। তবে এর বাইরে আরও প্রায় দেড় কোটি ভোটার রয়েছেন, যাদের নাম খসড়া তালিকায় থাকলেও তাদের নিয়ে সন্দেহ আছে বলে জানায় কমিশন।

এ ইস্যুতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বলেন, এসআইআর করে ভোটার বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি ও কমিশন বাংলাকে দখল করতে চাইছে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। তার ভাষায়, ‘কমিশন ভাবে কী? ভোটার বাদ দিয়ে আমাদের বাদ দেবে? মানুষই আপনাদের বাদ দিয়ে দেবে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লড়াই করে ওদের ক্লান্ত করে দিতে হবে। কারণ ওরা মাঠে নামে না, ওরা থাকে টিভির পর্দায়। আর আমরা থাকি মানুষের মধ্যে। ওরা থাকুক দেওয়ালে, তৃণমূল থাকুক খেয়ালে!’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মমতার আজকের বক্তব্য ছিল একের পর এক রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি। বিজেপিকে রুখতে কর্মীদের প্রাণপণ লড়াইয়ের ডাক দিয়ে মমতা বলেন, ‘প্রাণ দিয়ে, জীবন দিয়ে বিজেপিকে রুখতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, নেতারা পারবে না—কর্মীরা পারবে। এই লড়াই আমাদের বাঁচার লড়াই। এ লড়াই আমাদের জিততেই হবে।’