Dhaka ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টাইনরা দেশে ফিরে গেলেন

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮ Time View


যা শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসব হিসেবে, তা পরিণত হয়েছে এক বিতর্কিত কাণ্ডে। লাতিন-বাংলা সুপার কাপের আর্জেন্টিনার অ্যাতলেটিকো চার্লোন দলের নামে খেলতে আসা আর্জেন্টাইনরা অবশেষে ঢাকা ত্যাগ করেছে। কয়েক ভাগে তারা দেশে ফিরলেন। একটা অংশ আগেই ফিরেছে। শেষ অংশ গতকাল ফিরেছে। জানা গেছে ১৮ ফুটবলার গতকাল দুপুরে ফিরে গেছেন দেশে। তবে তারা দেশে গেলেও রয়ে গেছে টুর্নামেন্ট চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, বকেয়া বিল এবং আর্থিক সমাধান হয়নি এখনো। 

অ্যাতলেটিকো চার্লোন ১৩ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে টিকিট ও হোটেল বিল পরিশোধ না হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিন হোটেলে থাকতে হয়েছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে আর্জেন্টিনার দল হোটেল থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে। বোর্ডিং শেষ করার পর কোচ হার্নান ওজেদা মিডিয়ার সামনে কথা বলেন। বোঝা যাচ্ছিল তারা বলতে রাজি না। সব কথা বলতেও চাইছেন। কারণ বাংলাদেশে এসে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারা তাদের জীবনে এমন অভিজ্ঞতার কথা শোনেননি। আর নিজেরাও এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত নন। তার পরও স্বস্তির কথাই শোনালেন, ‘বাংলাদেশে এসে আমরা খুবই স্বস্তি অনুভব করেছি। এখানে আমাদের ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। দুঃখজনক যে টুর্নামেন্ট শেষ করা সম্ভব হয়নি। আশা করি ভবিষ্যতে আবার আসব।’ 

সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়েছে; কারণ আর্জেন্টিনার দূতাবাস থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারা তাদের খেলোয়াড়দেরকে নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর্জেন্টিনার দল চলে গেলেও বিতর্ক থামেনি। বকেয়া বিল, ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং আয়োজকদের দায়িত্বহীনতার কারণে এই টুর্নামেন্ট আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবল আয়োজক হিসেবে লজ্জার মুখে ফেলেছে। 

লাতিন বাংলা টুর্নামেন্টের ট্রাভেল পার্টনার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে তাদের বকেয়া আড়াই কোটি টাকার ওপর। আয়োজক আসাদুজ্জামানের সহকারীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া শোধ করছেন। ‘এখন আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবসা বন্ধ। দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের সোহরাব হোসেন সংবাদমাধ্যমকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। তিনি জানান ব্রাজিলীয় ক্লাব দ্রুত দেশে ফিরে যেতে পেরেছে কারণ তারা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের নজরে ছিল এবং তাদের জন্য আগেভাগে বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

কিন্তু আর্জেন্টিনার ক্লাবটি কম পরিচিত হওয়ায় কোনো ফেডারেশন সমর্থন না থাকায় দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ব্রাজিলের ক্লাব ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আসার আগে ‘দুবার ভাববে’।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

আর্জেন্টাইনরা দেশে ফিরে গেলেন

Update Time : ০৭:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫


যা শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসব হিসেবে, তা পরিণত হয়েছে এক বিতর্কিত কাণ্ডে। লাতিন-বাংলা সুপার কাপের আর্জেন্টিনার অ্যাতলেটিকো চার্লোন দলের নামে খেলতে আসা আর্জেন্টাইনরা অবশেষে ঢাকা ত্যাগ করেছে। কয়েক ভাগে তারা দেশে ফিরলেন। একটা অংশ আগেই ফিরেছে। শেষ অংশ গতকাল ফিরেছে। জানা গেছে ১৮ ফুটবলার গতকাল দুপুরে ফিরে গেছেন দেশে। তবে তারা দেশে গেলেও রয়ে গেছে টুর্নামেন্ট চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, বকেয়া বিল এবং আর্থিক সমাধান হয়নি এখনো। 

অ্যাতলেটিকো চার্লোন ১৩ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে টিকিট ও হোটেল বিল পরিশোধ না হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিন হোটেলে থাকতে হয়েছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে আর্জেন্টিনার দল হোটেল থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে। বোর্ডিং শেষ করার পর কোচ হার্নান ওজেদা মিডিয়ার সামনে কথা বলেন। বোঝা যাচ্ছিল তারা বলতে রাজি না। সব কথা বলতেও চাইছেন। কারণ বাংলাদেশে এসে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারা তাদের জীবনে এমন অভিজ্ঞতার কথা শোনেননি। আর নিজেরাও এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত নন। তার পরও স্বস্তির কথাই শোনালেন, ‘বাংলাদেশে এসে আমরা খুবই স্বস্তি অনুভব করেছি। এখানে আমাদের ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। দুঃখজনক যে টুর্নামেন্ট শেষ করা সম্ভব হয়নি। আশা করি ভবিষ্যতে আবার আসব।’ 

সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়েছে; কারণ আর্জেন্টিনার দূতাবাস থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারা তাদের খেলোয়াড়দেরকে নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর্জেন্টিনার দল চলে গেলেও বিতর্ক থামেনি। বকেয়া বিল, ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং আয়োজকদের দায়িত্বহীনতার কারণে এই টুর্নামেন্ট আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবল আয়োজক হিসেবে লজ্জার মুখে ফেলেছে। 

লাতিন বাংলা টুর্নামেন্টের ট্রাভেল পার্টনার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে তাদের বকেয়া আড়াই কোটি টাকার ওপর। আয়োজক আসাদুজ্জামানের সহকারীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া শোধ করছেন। ‘এখন আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবসা বন্ধ। দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের সোহরাব হোসেন সংবাদমাধ্যমকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। তিনি জানান ব্রাজিলীয় ক্লাব দ্রুত দেশে ফিরে যেতে পেরেছে কারণ তারা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের নজরে ছিল এবং তাদের জন্য আগেভাগে বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

কিন্তু আর্জেন্টিনার ক্লাবটি কম পরিচিত হওয়ায় কোনো ফেডারেশন সমর্থন না থাকায় দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ব্রাজিলের ক্লাব ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আসার আগে ‘দুবার ভাববে’।