Dhaka ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর্মঘণ্টায় ফেসবুক ব্যবহার নয় প্রমাণ পেলে সেদিনই বিচারিক জীবনের শেষ দিন

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮ Time View


ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সেদিনই হবে বিচারিক জীবনের শেষ দিন। মঙ্গলবার দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অভিভাষণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশ, দ্রুততম সময়ে মামলায় আদেশ ও রায় প্রদান করা, সততা বজায় রাখা, বহিরাগতদের কোর্টে প্রবেশ নিষিদ্ধে বিচারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন বলে সূত্র জানিয়েছেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। শপথগ্রহণ করার পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার দেওয়া অভিভাষণে অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার সুযোগ  নেই। বিচারক হিসেবে আপনাদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চড়ামূল্য দিতে হবে। 

বিচারকদের দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন-সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করবেন। যদি রায় প্রদানে বিলম্ব করেন তাহলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হবে। ভোগান্তি হবে বিচারপ্রার্থী জনগণের। সেজন্য রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতাদের ছাড়াও হকারদের দেখা যায়। এদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। সর্বোপরি আইনজীবীরা যেন ড্রেসকোড মেনে চলেন, সেদিকে আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত অধস্তন আদালতের অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কর্মঘণ্টা। মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি রয়েছে বলে জানান নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

কর্মঘণ্টায় ফেসবুক ব্যবহার নয় প্রমাণ পেলে সেদিনই বিচারিক জীবনের শেষ দিন

Update Time : ১২:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬


ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সেদিনই হবে বিচারিক জীবনের শেষ দিন। মঙ্গলবার দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অভিভাষণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশ, দ্রুততম সময়ে মামলায় আদেশ ও রায় প্রদান করা, সততা বজায় রাখা, বহিরাগতদের কোর্টে প্রবেশ নিষিদ্ধে বিচারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন বলে সূত্র জানিয়েছেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। শপথগ্রহণ করার পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার দেওয়া অভিভাষণে অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার সুযোগ  নেই। বিচারক হিসেবে আপনাদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চড়ামূল্য দিতে হবে। 

বিচারকদের দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন-সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করবেন। যদি রায় প্রদানে বিলম্ব করেন তাহলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হবে। ভোগান্তি হবে বিচারপ্রার্থী জনগণের। সেজন্য রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতাদের ছাড়াও হকারদের দেখা যায়। এদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। সর্বোপরি আইনজীবীরা যেন ড্রেসকোড মেনে চলেন, সেদিকে আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত অধস্তন আদালতের অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কর্মঘণ্টা। মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি রয়েছে বলে জানান নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক।





Source link