Dhaka ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের স্ত্রী আফরোজার ভবনসহ জমি জব্দের আদেশ

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০ Time View


দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগমের গুলশানে দশমিক ৪৯৫০ একর জমির উপর নির্মিত বহুতল ভবনসহ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া ঢাকার ভাটারা এলাকার তিন দশমিক ৩৭৭ একর জমিও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বহুতল ভবনসহ এসব জমি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আহমেদ আকবর সোবহান ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানকালে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জনের তথ্য মিলেছে। দুদক জেনেছে আফরোজা বেগম তার মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের এবং সুষ্ঠু বিচারের জন্য তার এসব স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা দরকার।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী বড় বড় ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়েও অনুসন্ধানে নামে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বসুন্ধরাসহ পাঁচ বড় কোম্পানির মালিকদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায়।

এরপর অক্টোবরে আহমেদ আকবার সোবহান ও তার চার ছেলেসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

ওই মাসেই দুদকের আবেদনে আহমেদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

এছাড়া সিআইডি দেড় লাখ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আহমেদ আকবর সোবহান ও তার ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত জানায় গত সেপ্টেম্বরে।

এর আগে গত এপ্রিলে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত।

জুনে আহমেদ আকবর সোবহানের দুই ছেলে—গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান (সানভীর) এবং কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহানের ‘যুক্তরাজ্যে পাচার করা সম্পদের’ তথ্য জানিয়ে সে দেশে চিঠি পাঠানোর তথ্য দিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ব্যাংকের ‘৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগে গত ১০ ডিসেম্বর মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের স্ত্রী আফরোজার ভবনসহ জমি জব্দের আদেশ

Update Time : ০৮:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬


দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগমের গুলশানে দশমিক ৪৯৫০ একর জমির উপর নির্মিত বহুতল ভবনসহ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া ঢাকার ভাটারা এলাকার তিন দশমিক ৩৭৭ একর জমিও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বহুতল ভবনসহ এসব জমি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আহমেদ আকবর সোবহান ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানকালে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জনের তথ্য মিলেছে। দুদক জেনেছে আফরোজা বেগম তার মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের এবং সুষ্ঠু বিচারের জন্য তার এসব স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা দরকার।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী বড় বড় ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়েও অনুসন্ধানে নামে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বসুন্ধরাসহ পাঁচ বড় কোম্পানির মালিকদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায়।

এরপর অক্টোবরে আহমেদ আকবার সোবহান ও তার চার ছেলেসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

ওই মাসেই দুদকের আবেদনে আহমেদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

এছাড়া সিআইডি দেড় লাখ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আহমেদ আকবর সোবহান ও তার ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত জানায় গত সেপ্টেম্বরে।

এর আগে গত এপ্রিলে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত।

জুনে আহমেদ আকবর সোবহানের দুই ছেলে—গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান (সানভীর) এবং কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহানের ‘যুক্তরাজ্যে পাচার করা সম্পদের’ তথ্য জানিয়ে সে দেশে চিঠি পাঠানোর তথ্য দিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ব্যাংকের ‘৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগে গত ১০ ডিসেম্বর মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।





Source link