Dhaka ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিমানের রেকর্ড ১১,৫৫৯ কোটি টাকা আয়, নিট মুনাফা বেড়েছে ১৭৮%

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮ Time View


জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় ও মুনাফা অর্জন করেছে। এই অর্থবছরে সংস্থাটি ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা আয় করেছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৯.৪৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিমানের নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮৫.২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিমান ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা অপারেশনাল মুনাফা অর্জন করেছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম বারের মতো লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১০টি অর্থবছরের মধ্যে ৯ বারই নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিগত অর্থবছরে বিমান তার বহরে থাকা ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে মোট ৩৩.৮৩ লক্ষ যাত্রী পরিবহন করেছে। যাত্রী পরিবহনের এই সংখ্যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।

একইসঙ্গে কার্গো পরিবহনেও বড় সাফল্য দেখিয়েছে সংস্থাটি। ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫.২১ শতাংশ বেশি। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতেও বিমান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১,১১২টি ফ্লাইটের মোট ৬১ লক্ষ ৩ হাজার ১৪৭ জন যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করেছে বিমান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। বিগত ৫৪ বছরের ইতিহাসে বিমান সরকার থেকে কোনো প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। সেবার মান উন্নত হওয়ায় যাত্রীদের আস্থাও বাড়ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়েছে।


বাংলাদেশ বিমান

দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করায় বিমানের সেফটি রেকর্ডও ধারাবাহিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং লাভজনক রুট সম্প্রসারণের প্রশংসা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ব্যবস্থাপনার দক্ষ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর সম্পদ বণ্টন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দৃঢ় করার ফলে এই রেকর্ড মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমান নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিমানের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জনাব শেখ বশির উদ্দিন। সভায় গত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদিত হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বিমানের রেকর্ড ১১,৫৫৯ কোটি টাকা আয়, নিট মুনাফা বেড়েছে ১৭৮%

Update Time : ০৩:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬


জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় ও মুনাফা অর্জন করেছে। এই অর্থবছরে সংস্থাটি ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা আয় করেছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৯.৪৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিমানের নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮৫.২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিমান ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা অপারেশনাল মুনাফা অর্জন করেছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম বারের মতো লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১০টি অর্থবছরের মধ্যে ৯ বারই নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিগত অর্থবছরে বিমান তার বহরে থাকা ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে মোট ৩৩.৮৩ লক্ষ যাত্রী পরিবহন করেছে। যাত্রী পরিবহনের এই সংখ্যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।

একইসঙ্গে কার্গো পরিবহনেও বড় সাফল্য দেখিয়েছে সংস্থাটি। ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫.২১ শতাংশ বেশি। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতেও বিমান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১,১১২টি ফ্লাইটের মোট ৬১ লক্ষ ৩ হাজার ১৪৭ জন যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করেছে বিমান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। বিগত ৫৪ বছরের ইতিহাসে বিমান সরকার থেকে কোনো প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। সেবার মান উন্নত হওয়ায় যাত্রীদের আস্থাও বাড়ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়েছে।


বাংলাদেশ বিমান

দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করায় বিমানের সেফটি রেকর্ডও ধারাবাহিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং লাভজনক রুট সম্প্রসারণের প্রশংসা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ব্যবস্থাপনার দক্ষ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর সম্পদ বণ্টন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দৃঢ় করার ফলে এই রেকর্ড মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমান নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিমানের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জনাব শেখ বশির উদ্দিন। সভায় গত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদিত হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 





Source link