Dhaka ০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ মঙ্গলবার থেকে, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩ Time View


কুয়াশায় আচ্ছন্ন দেশে কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শীতল হয়ে আছে মাটি। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গত তিন দিন ধরেই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ঘিরে নেয়। বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এর মাঝেই শীত নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে। 

বিশেষ করে আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্য প্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, যার প্রভাব পড়ছে বিমান থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগেও। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। ঢাকার ৯ ফ্লাইট চলে যায় চট্টগ্রাম-কলকাতা-ব্যাংককে। সড়কে বহু যান বাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরেই দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ রয়েছে। প্রথম দিন ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল, খুলনা বিভাগসহ আরো কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল, পরে তা কিছুটা কমেছে। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। গতবারের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিতও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, আজ শনিবারও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী: মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। 

অন্যদিকে, মৌসুমি লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই; আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮-১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২৩ মিনিটে এবং আজ সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনের বর্ধিত অবস্থায় তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাত্ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ জুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকবে।

কুয়াশা হিমেল হাওয়ায় নাজেহাল ঢাকাবাসী, বিপর্যস্ত জনজীবন

ঢাকায় শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে কুয়াশার ঘনত্ব ও হিমেল বাতাসের দাপট। ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। শীত ও কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও রাস্তায় কাজ করা শ্রমজীবীরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের জন্য এই শীত আরো কষ্টকর হয়ে উঠছে। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘন কুয়াশা দেখা যায়। কুয়াশার কারণে অনেক স্থানে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কম থাকায় চালকদের বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে মানুষের চলাচল কিছুটা কম ছিল। তবে প্রয়োজনের তাগিদে যাদের বের হতে হয়েছে, তাদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে একাধিক গরম পোশাক পরেও শীত সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে।

এদিকে সারা দেশে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ আবারও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় গতকালও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১৪১। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৫তম অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ মঙ্গলবার থেকে, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

Update Time : ০১:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬


কুয়াশায় আচ্ছন্ন দেশে কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শীতল হয়ে আছে মাটি। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গত তিন দিন ধরেই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ঘিরে নেয়। বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এর মাঝেই শীত নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে। 

বিশেষ করে আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্য প্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, যার প্রভাব পড়ছে বিমান থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগেও। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। ঢাকার ৯ ফ্লাইট চলে যায় চট্টগ্রাম-কলকাতা-ব্যাংককে। সড়কে বহু যান বাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরেই দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ রয়েছে। প্রথম দিন ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল, খুলনা বিভাগসহ আরো কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল, পরে তা কিছুটা কমেছে। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। গতবারের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিতও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, আজ শনিবারও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী: মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। 

অন্যদিকে, মৌসুমি লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই; আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮-১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২৩ মিনিটে এবং আজ সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনের বর্ধিত অবস্থায় তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাত্ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ জুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকবে।

কুয়াশা হিমেল হাওয়ায় নাজেহাল ঢাকাবাসী, বিপর্যস্ত জনজীবন

ঢাকায় শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে কুয়াশার ঘনত্ব ও হিমেল বাতাসের দাপট। ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। শীত ও কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও রাস্তায় কাজ করা শ্রমজীবীরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের জন্য এই শীত আরো কষ্টকর হয়ে উঠছে। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘন কুয়াশা দেখা যায়। কুয়াশার কারণে অনেক স্থানে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কম থাকায় চালকদের বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে মানুষের চলাচল কিছুটা কম ছিল। তবে প্রয়োজনের তাগিদে যাদের বের হতে হয়েছে, তাদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে একাধিক গরম পোশাক পরেও শীত সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে।

এদিকে সারা দেশে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ আবারও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় গতকালও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১৪১। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৫তম অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।





Source link