Dhaka ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে চাকরি নেওয়া সেই সহকারী সচিব বরখাস্ত

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৮ Time View


মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহারের অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে কোটার সুবিধা নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কামাল হোসেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্টে হাজির হয়ে দুদকের মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সরকার তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করেন। তাই সরকারি চাকরি আইনের ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ওএসডি সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেনকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরি লাভসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেন। প্রতারণা ও জাল–জালিয়াতির অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নকালীন পিতার নাম হিসেবে তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেন।

পরবর্তী সময় একই স্কুলে নবম শ্রেণিতে তিনি তার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে চাকরি নেওয়া সেই সহকারী সচিব বরখাস্ত

Update Time : ০৭:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহারের অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে কোটার সুবিধা নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কামাল হোসেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্টে হাজির হয়ে দুদকের মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সরকার তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করেন। তাই সরকারি চাকরি আইনের ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ওএসডি সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেনকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরি লাভসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেন। প্রতারণা ও জাল–জালিয়াতির অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নকালীন পিতার নাম হিসেবে তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেন।

পরবর্তী সময় একই স্কুলে নবম শ্রেণিতে তিনি তার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।





Source link