Dhaka ০৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এস আলমের মামলা লড়তে ব্রিটিশ ল ফার্ম নিয়োগ, ঘণ্টায় খরচ দেড় লাখ টাকা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯ Time View


আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম ও তার পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ব্রিটিশ একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ল ফার্মকে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ল ফার্ম নিয়োগ ও এ খাতে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আন্তর্জাতিক সালিসি মামলা পরিচালনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। মামলাটি বিশ্বব্যাংকের অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি)-এ দায়ের করা হয়েছে, যার কেস নম্বর এআরবি/২৫/৫২।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ ল ফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি-কে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এ ল ফার্মের আইনি সেবা নিতে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। তবে বিলযোগ্য সময় গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এস আলম লন্ডনে মামলা করেছে এবং আইসিএসআইডিতে তা চ্যালেঞ্জ করেছে। এই মামলায় সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি বহু টাকার বিষয় এবং মামলা অত্যন্ত জটিল।’

তিনি আরও জানান, অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলমের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আইসিএসআইডি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার জবাব দিতে হবে।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিসি মামলার আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

সালিসি আবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তদন্ত এবং গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থী।

এস আলম পরিবার ২০০৪ সালের বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই সালিসি মামলা করেছে। নথি অনুযায়ী, তারা ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে।

সালিসি আবেদনে তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীনেও সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে অর্থ পাচারের মোট পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে এস আলম পরিবার।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

এস আলমের মামলা লড়তে ব্রিটিশ ল ফার্ম নিয়োগ, ঘণ্টায় খরচ দেড় লাখ টাকা

Update Time : ০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম ও তার পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ব্রিটিশ একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ল ফার্মকে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ল ফার্ম নিয়োগ ও এ খাতে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আন্তর্জাতিক সালিসি মামলা পরিচালনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। মামলাটি বিশ্বব্যাংকের অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি)-এ দায়ের করা হয়েছে, যার কেস নম্বর এআরবি/২৫/৫২।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ ল ফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি-কে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এ ল ফার্মের আইনি সেবা নিতে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। তবে বিলযোগ্য সময় গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এস আলম লন্ডনে মামলা করেছে এবং আইসিএসআইডিতে তা চ্যালেঞ্জ করেছে। এই মামলায় সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি বহু টাকার বিষয় এবং মামলা অত্যন্ত জটিল।’

তিনি আরও জানান, অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলমের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আইসিএসআইডি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার জবাব দিতে হবে।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিসি মামলার আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

সালিসি আবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তদন্ত এবং গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থী।

এস আলম পরিবার ২০০৪ সালের বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই সালিসি মামলা করেছে। নথি অনুযায়ী, তারা ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে।

সালিসি আবেদনে তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীনেও সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে অর্থ পাচারের মোট পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে এস আলম পরিবার।





Source link