Dhaka ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মতিউরের ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ নিয়ে চার্জশিট অনুমোদন

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২ Time View


প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আলোচিত সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মতিউর রহমান তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ থেকে নিজ নামে এবং গোপনে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করে দুদক।

প্রথম মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার চার্জশিট ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় তার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীকে। শিবলীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার তদন্ত এখনো চলমান। তাকে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে কোরবানির ঈদের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার ঘটনায় আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামে এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দাবি করা হয়, তিনি মতিউর রহমানের ছেলে।

এই ঘটনার পর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার ধারাবাহিকতায় পরিবারটির বিপুল বিত্তবৈভবের নানা তথ্য সামনে আসে।

এরই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি তাদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ করা হয়।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

মতিউরের ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ নিয়ে চার্জশিট অনুমোদন

Update Time : ১০:৫০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আলোচিত সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মতিউর রহমান তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ থেকে নিজ নামে এবং গোপনে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করে দুদক।

প্রথম মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার চার্জশিট ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় তার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীকে। শিবলীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার তদন্ত এখনো চলমান। তাকে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে কোরবানির ঈদের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার ঘটনায় আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামে এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দাবি করা হয়, তিনি মতিউর রহমানের ছেলে।

এই ঘটনার পর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার ধারাবাহিকতায় পরিবারটির বিপুল বিত্তবৈভবের নানা তথ্য সামনে আসে।

এরই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি তাদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ করা হয়।





Source link